উখিয়া ও ঘুমধুমে ইটভাটায় কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:১৪

কক্সবাজারের উখিয়া ও ঘুমধুমের লোকালয়ে নিয়মবহির্ভূত উপায়ে পাকা স্থাপনা তৈরির অন্যতম উপকরণ ইট তৈরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইট তৈরি ও পোড়ানোর ক্ষেত্রে বনসম্পদ ব্যবহারের উপর আইনগত নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ভাটা মালিকেরা লোক দেখানো কিছু পরিমাণ কয়লা মজুদ করে কৌশলে ইটভাটায় জ্বালানি হিসাবে ব্যক্তি মালিকানাধীন, সামাজিক বনায়নের কাঠ ও বনসম্পদ বেপরোয়াভাবে ব্যবহার করে যাচ্ছে বলে অভিযোগে জানা গেছে।

হলদিয়া পালং ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সরওয়ার কামাল বাদশাহ অভিযোগ করে জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রবিহীন যত্রতত্র গড়ে উঠা অবৈধ ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে জ্বালানি হিসাবে নির্বিচারে বনসম্পদ পুড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, পাহাড় কাটা মাটি, বনসম্পদ ধ্বংসের পাশাপাশি কৃষি জমির মাটি কাটার ফলে একদিকে যেমন জমির উর্বরাশক্তি হ্রাস পাচ্ছে অন্যদিকে প্রাকৃতিক পরিবেশের চরম অবনতি হচ্ছে।

উখিয়ার হলদিয়া পাতাবাড়ী, মধ্যম হলদিয়া, ঘুমধুমের চাইল্যাতলী ও তত্সংলগ্ন আজুখাইয়ার কয়েকটি ইটভাটা ঘুরে দেখা যায়, ভাটার সামনে কিছু পরিমাণ কয়লা মজুদ রাখা হলেও তা ব্যবহার করা হচ্ছে না। ভাটার পেছনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকশ টন কাঁচা লাকড়ি মজুদ রাখা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী শামসুল আলম সাওদাগরসহ আরো কয়েকজন গ্রামবাসী অভিযোগ করে জানান, চাইল্যাতলী ও আজুখাইয়া এলাকায় অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত ইটভাটায় প্রচুর পরিমাণ সামাজিক বনায়নের গাছ, ফলদ ও বনজ গাছসহ বনসম্পদ নির্বিচারে পোড়ানো হচ্ছে।

স্থানীয় স্কুলশিক্ষক হেলাল উদ্দিন জানান, ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় শিক্ষার্থীরা ও এলাকার বয়োবৃদ্ধরা শ্বাস কষ্টের মতো বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। স্থানীয় কৃষক নজু মিয়া জানান, ইটভাটার কারণে শীতকালীন শাক-সবজি উত্পাদনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এ ব্যাপারে একজন ভাটা মালিক আবুল কালামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার মালিকানাধীন ভাটায় সামাজিক বনায়নের লাকড়ী মজুদ রাখা হয়েছে। ইটভাটা বৈধ কিনা জিজ্ঞেস করলে তিনি কোনো সদুত্তর দেননি। নাম প্রকাশ না করা শর্তে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, চাইল্যাতলী এলাকায় ২০১৬ সালে অবৈধভাবে স্থাপন করা ইটভাটায় জ্বালানি যোগান দিতে গিয়ে দুজন রোহিঙ্গা শিশু ঘটনাস্থলে মারা যায়। খবর পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ির তত্কালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইটভাটা পরিদর্শন করে ভাটার মালামাল জব্দ ও নগদ টাকা জরিমানা করেন।

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আশরাফুল ইসলাম জানান, অবৈধ ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। টেকনাফের ৩টি ইটভাটার মালামাল জব্দ করা হয়েছে। অবৈধ ইটভাটার ব্যাপারে জানতে চাইলে নাইক্ষ্যংছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া আফরিন কচি জানান, অবৈধভাবে গড়ে উঠা ইটভাটায় অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, নির্বাচনী ব্যস্ততায় এ মুহূর্তে অভিযান পরিচালনা সম্ভব না হলেও যে কোনো সময়ে এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।