এফডিআর ভেঙে চট্টগ্রাম ওয়াসায় বেতন হচ্ছে

আপডেট : ১৭ জুন ২০২০, ২২:০৭

করোনার কারণে ওয়াসায় পানির বিল আদায় অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। গত তিন মাস ধরে পানির মোট বিলের ৩০ শতাংশও আদায় হয়নি। এখন এফডিআরের টাকা ভেঙে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য খরচ মেটাতে হচ্ছে। বিল আদায় না হওয়ার কারণে পুঞ্জীভূত বকেয়া টাকার পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। বিরাজমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে ওয়াসা বড়ো ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে। তাই জুন মাসে ২০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত কয়েক মাস যাবত্ ওয়াসার রাজস্ব বিভাগে শীর্ষ পর্যায়ে তিনটি পদ খালি রয়েছে। উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ), বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক ও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার পদগুলো বদলিজনিত কারণে খালি রয়েছে। ফলে রাজস্ব বিভাগে এক ধরনের অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

ওয়াসার কর্মকর্তারা জানান, তাদের আয় বলতে পানির বিল, নলকূপের কর ও এফডিআর এর মুনাফা। গত মার্চ মাসে দেশে করোনার বিস্তার শুরু হয়। পরে সাধারণ ছুটির কারণে দীর্ঘ সময় সরকারি অফিস-আদালত ও ব্যাংক-বিমা বন্ধ ছিল। এসময়ে পানির কোনো বিল আদায় হয়নি। পরবর্তীতে সাধারণ ছুটি বাতিল হলেও পানির বিল আদায়ে গ্রাহকদের তেমন সাড়া মিলছে না। ফলে ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মেটাতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) গোলাম হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, গত দুই মাসে পানি বিল আদায় একেবারে কম হয়েছে। জুন মাসে আমরা পানি বিল খাতে ২০ কোটি টাকা কালেকশনের টার্গেট করেছি। ফলে জুন মাসের পর অর্থনৈতিক সংকট কেটে যাবে বলে আশা করছি। বিল আনাদায়ের কারণে পুঞ্জীভূত বকেয়া বেড়ে যাচ্ছে। এফডিআরের টাকা ভেঙে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনসহ অন্যান্য খরচ মেটাতে হচ্ছে।’

ওয়াসা সূত্র জানায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনসহ অন্যান্য খরচ মেটাতে বছরে প্রায় ১৩০ কোটি টাকা ব্যয় হয়। বিপরীতে বছরে আয় ১১০ থেকে ১১২ কোটির বেশি হয় না। নতুন পানি শোধনাগার ও নলকূপ খাতে বছরে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। সাধারণ ছুটির সময় কর্মচারীদের ওভারটাইম দিয়ে পানি বিতরণে কাজ করাতে হয়েছে। এতে ওভারটাইম বাবদ খরচও বেড়ে গেছে। সরকারের কাছ থেকে ওয়াসা কোনো ভর্তুকি পায় না। আয়ের ওপর নির্ভর করেই চলতে হয়।

ওয়াসা দৈনিক ৩৬ কোটি লিটার পানি সরবরাহ দিয়ে থাকে। করোনার মধ্যে হাত ধোয়াসহ নানা কারণে প্রায় ১ কোটি লিটারের মতো পানির চাহিদা বেড়ে যায়। এ প্রসঙ্গে ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, নিয়মিত পানির বিল আদায় অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। অন্য দিকে করোনার কারণে পানির চাহিদা বেড়ে গেছে। ফলে পানির উত্পাদন বাড়ানোর জন্য বন্ধ থাকা কিছু নলকূপ চালু করতে হয়েছে। এতে দৈনিক ১ কোটি লিটার পানি উত্পাদন বেড়েছে।’