হবিগঞ্জে সাত শতাধিক বিএনপি নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে চার মামলা

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:১৯

হবিগঞ্জে নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের অভিযোগে বিএনপির ছয় শতাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এর মাঝে একটি মামলায় ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। অপরদিকে, আওয়ামী লীগ কর্মী দাবি করে আরও দুই ব্যক্তি পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন। উভয় মামলায়ই হবিগঞ্জ-৩ (সদর-লাখাই-শায়েস্তাগঞ্জ) আসনের ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জি কে গউছকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এর মাঝে সদর উপজেলার তেতৈয়া গ্রামের সাবেক ইউপি মেম্বার তৈয়ব আলী বাদি হয়ে ১০৪ জনের বিরুদ্ধে এবং শহরের শায়েস্তানগর এলাকার মোঃ আশরাফ আহমেদ হারুন বাদি হয়ে জেকে এন্ড এইচকে হাইস্কুল কেন্দ্রে সহিংসতার অভিযোগে আরও ২২ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। মঙ্গলবার দুটি মামলাই সদর থানায় দায়ের করা হয়।

পুলিশ জানায়, রক্ষাকারী শহরের গরুর বাজার এলাকায় সওদাগর কৃষ্ণধন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্বাচনী কাজে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বাধা প্রদান ও পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার ডিবি পুলিশের এসআই ইকবাল বাহার বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি কোহিনুর আলমসহ বিএনপির ৫৩ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত প্রায় দুইশতজনকে আসামি করা হয়েছে।

অপরদিকে শহরতলীর তেতৈয়া এলাকায় ব্যালট বাক্স ছিনতাই ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার রাতে সদর থানার এএসআই রিপন বাদি হয়ে উক্ত মামলাটি দায়ের করেন। এতে ইউপি মেম্বার বাছিত মিয়াসহ ৯৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও প্রায় ৩শ’ জনকে আসামি করা হয়।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনের দিন সওদাগর কৃষ্ণধন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নির্বাচনী কাজে বাধা দেয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। পরে তাদের সাথে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে বিএনপি নেতা-কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশের উপর হামলা চালায়। এতে জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি মানিকুল ইসলাম ও এসআই ইকবাল বাহারসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

এছাড়া, তেতৈয়া এলাকায় বিএনপি নেতা-কর্মীরা ব্যালট বাক্স ছিনতাই ও পুলিশের কাজে বাধা দেয়। পরে এ ঘটনায় পুলিশ ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে এএসআই রিপনসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে তাদেরকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়া হয়। উক্ত মামলায় তেতৈয়া গ্রামের ইদ্রিছ আলীর ছেলে সাবাজুল ইসলাম ও আব্দুল কবিরের ছেলে হাবিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।