যশোরের ঝিকরগাছায় বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে ছয় জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে নিহতদের পরিবার ও পুলিশ প্রশাসনের দাবি, ঐ ছয় জনের সবাই নাকি হার্ট অ্যাটাকেই মারা গেছেন! একই ধরনের ঘটনায় যুক্ত ছয় জনের হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অ্যালকোহল পানে মারা যাওয়ার বিষয়টি সামনে চলে আসার পরও পুলিশ প্রশাসন ও পরিবারের বিরুদ্ধে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অভিযোগ উঠেছে।
সোম ও মঙ্গলবার ঝিকরগাছার কয়েকটি গ্রামে চাঞ্চল্যকর এই মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটে। আরো তিন জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। হাসপাতালে চিকিত্সাধীনরা অবশ্য অ্যালকোহল পানের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাদের দাবি অনুযায়ী মারা যাওয়া ছয় জনের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি অ্যালকোহল পান করেন। মারা যাওয়া হাবিল গাজী নিজেও অ্যালকোহল বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
এ প্রসঙ্গে বুধবার বিকেলে ঝিকরগাছা থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, অ্যালকোহল পানে যাদের মৃত্যুর কথা বলা হচ্ছে তাদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়েছি। চিকিত্সকদের ছাড়পত্রে বলা হয়েছে হার্ট অ্যাটাকে তাদের মৃত্যু হয়েছে। আবার পরিবারের লোকজনও বলছে অ্যালকোহল পানে নয়, হার্ট অ্যাটাকে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
নিহতরা হলেন—রাজাপুর গ্রামের আবুল গাজীর ছেলে হাবিল গাজী (৬০), বর্ণি গ্রামের সুরত আলীর ছেলে ফারুক হোসেন (৪০), হাজীর আলী গ্রামের মৃত গহর আলীর ছেলে আসমত আলী (৫০), পুরন্দরপুর গ্রামের মৃত ফকির ধোপার ছেলে হামিদুর রহমান (৫৫), রাজাপুর গ্রামের আলফাজের ছেলে নুর ইসলাম খোকা (৫৫) ও ঋষিপাড়ার মৃত রশিক লালের ছেলে নারায়ণ (৫৫)। হাসপাতালে চিকিত্সাধীন তিন জন হলেন—ঝিকরগাছার কাউরিয়া ঋষিপাড়ার মৃত সন্নাসী দাসের ছেলে রিপন দাস (৪০) ও নীল কুমারের ছেলে কিশোর দাস (৩২), হাজিরআলী গ্রামের মৃত আবুল কালামের ছেলে সেলিম হোসেন (৩৪)।
অ্যালকোহল পানে অসুস্থ কিশোর দাস জানান, সোমবার সকালে তিনি রাজাপুর গ্রামের হাবিল গাজীর কাছ থেকে ৩৫০ টাকায় এক বোতল অ্যালকোহল কিনে বাড়িতে কাকী দুখিনি দাসের সঙ্গে পান করেন। কিছুক্ষণ পর তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন।
আরেক অসুস্থ নাফিজ জানিয়েছেন, সোমবার সকালে রাজাপুর গ্রামের জলিল সর্দারের ছেলে মিন্টুর কাছ থেকে অ্যালকোহল কিনে নুর ইসলাম খোকা, নারায়ণ ও হামিদুরের সঙ্গে তিনিও পান করেন। বাড়িতে যাওয়ার পর সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় নুর ইসলাম খোকা, হামিদুর ও নারায়ণ মারা যায়। ঐ দিন গভীররাতে তাদের দাফন করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার রাতে চিকিত্সাধীন অবস্থায় হাবিল গাজী, ফারুক হোসেন ও আসমত আলী মারা যান।
ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. রাশিদুল আলম সাংবাদিকদের জানান, সোমবার চার জন বিষাক্ত অ্যালকোহল পান করে হাসপাতালে ভর্তি হন। এক জনের অবস্থার অবনতি হলে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠানো হয়। আর এক জন হাসপাতাল থেকে পালিয়েছে।
