পঞ্চম শ্রেণি পাশ ফয়সালের (১৮) প্রেম ছিল কলেজপড়ুয়া এক ছাত্রীর সঙ্গে। প্রেমের বিষয়টি মেনে নেতে পারেনি ছাত্রীর পরিবার। শেষে ছাত্রীর ভাই কৌশলে ফয়সালকে নির্মাণাধীন একটি ভবনে ডেকে নিয়ে জবাই করে হত্যা করে। গত মঙ্গলবার রাতে ঘাতকের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী উপজেলার আমিরুল ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনের মাটির নিচ থেকে ফয়সালের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত ফয়সাল উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের মো. মুকবল মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ফয়সাল পঞ্চম শ্রেণি পাশ করে ঢাকায় একটি কোম্পানিতে কাজ করত। আর একই গ্রামের ফুল মিয়ার মেয়ে মেহেদি আক্তার রামকৃষ্ণপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে পড়ত। গত ৫ জুন রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিল ফয়সাল। এ সময় তার মোবাইলে একটি ফোন আসলে সে সেখান থেকে চলে আসে। এরপর থেকে ফয়সালকে আর খুঁজে পায়নি তার পরিবার।
পরে ৭ জুন ফয়সালের পরিবারের পক্ষ থেকে হোমনা থানায় একটি নিখোঁজ ডায়ারি করা হয়। এরপর ১৩ জুন অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে থানায় মামলা হয়। পরে পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামের নির্দেশে হোমনা থানার পাশাপাশি মামলাটির ছায়া তদন্তে নামে জেলা ডিবির এলআইসি টিম। গত মঙ্গলবার রাজধানীর চকবাজার এলাকা থেকে মেহেদি আক্তারের ভাই শামীমকে আটক করে ডিবি। শামীমকে আটকের পরই বেরিয়ে আসে হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য।
তাকে গ্রেফতার অভিযানে অংশ নেওয়া জেলা ডিবির পরিদর্শক ইকতিয়ার উদ্দিন জানান, আমরা নিহত যুবকের সঙ্গে একই গ্রামের একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারি। ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে ছিল মেয়ের ভাই শামীম। বিষয়টি সন্দেহ হওয়ায় তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার চকবাজার এলাকা থেকে শামীমকে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করে। পরে তার দেওয়া তথ্য মতে ঐ ভবনের মাটির নিচ থেকে সন্ধ্যায় লাশ উদ্ধার করা হয়।
