লাদাখে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

দিল্লি-বেইজিং পালটাপালটি দোষারোপ

আপডেট : ১৭ জুন ২০২০, ২৩:০১

ভারত আর চীনের মধ্যে সোমবার রাতে যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন ভারতীয় সেনার মৃত্যু হয়েছে লাদাখে, তা নিয়ে দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ এনেছে। ভারতের অভিযোগ, চীন একতরফাভাবে স্থিতাবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে চেয়েছিল, অন্যদিকে চীন ভারতীয় বাহিনীর দিকে আঙুল তুলে বলেছে, তারাই চীনা বাহিনীর সদস্যদের আক্রমণ করেছিল। সোমবারের ওই সংঘর্ষে দুই পক্ষেই হতাহত হয়েছে বলে ভারতীয় সেনাবাহিনী জানালেও চীন এখনো তাদের দিকে কোনো    হতাহতের সংখ্যা জানায়নি।

চীনের এক সামরিক মুখপাত্র প্রথম মুখ খুলেছেন বিষয়টি নিয়ে। চীনের সরকারি পত্রিকা পিপলস ডেইলি সেই বিবৃতি ছেপেছে। পিপলস লিবারেশন আর্মির পশ্চিম সীমান্ত অঞ্চলের মুখপাত্র ঝ্যাং শুইলিকে উদ্ধৃত করে পিপলস ডেইলি লিখেছে, ‘ভারতীয় সেনারা তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে আবারও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা পার করে বেআইনি কাজ চালাচ্ছিল এবং ইচ্ছে করে প্ররোচনা দেয় আর চীনা বাহিনীকে আক্রমণ করে। তারই ফলশ্রুতিতে দুই পক্ষের মধ্যে ‘ভয়ঙ্কর’ শারীরিক সংঘাত হয় এবং হতাহত হয়। এতে কোনো গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেনি। ভারতের উচিত তাদের বাহিনীকে কঠোরভাবে সংযত করা। নিয়ন্ত্রণরেখা লঙ্ঘন ও প্ররোচনা দেওয়া বন্ধ করে তাদের উচিত চীনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার নিষ্পত্তি করা।’

এর আগে মঙ্গলবারই ভারতের সেনাবাহিনী দুটি বিবৃতি দেয়। প্রথমে মৃতের সংখ্যা তিন বলা হলেও রাতে একটি বিবৃতিতে জানানো হয় গুরুতর আহত হয়েছিলেন, এমন ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার ফলে লাদাখের ওই সংঘর্ষে মোট ২০ জন নিহত হয়েছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বুধবার বলেছেন, ‘?ভারত শান্তি চায়। কিন্তু কেউ প্ররোচনা দিলে, যে কোনো পরিস্থিতিতে তার উপযুক্ত জবাব দিতেও প্রস্তুত। দেশের অখণ্ডতা আমাদের কাছে সবার ওপরে। তা নিয়ে কোনো সমঝোতা করা হবে না। আমাদের বীর শহিদ জওয়ানদের বিষয়ে দেশবাসী গর্ব করতে পারে যে, তারা মারতে মারতে মরেছেন। তাদের এই প্রাণহানি বৃথা যাবে না।’?

এদিকে, বুধবার দুপুরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। সেখানে জয়শঙ্কর ভারত সরকারের তরফে প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযোগ করে বলেছেন, এই হামলা পূর্ব পরিকল্পিতই ছিল। এই ঘটনা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে গভীর প্রভাব ফেলবে। আলোচনার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লাইন অব কন্ট্রোল নিয়ে ৬ জুন যে আলোচনা হয়েছিল, চীন সেই চুক্তি থেকে ধীরে ধীরে সরে গেছে।

এদিকে, চীনের এই হামলার পরিপ্রেক্ষিতে কী করণীয় তা জানতে আগামী শুক্রবার সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ওই বৈঠকে পরবর্তী পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর।