কুয়েতে আটক লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম ওরফে কাজী পাপুল ভালো বেতনের লোভ দেখিয়ে অনেক বাংলাদেশিকে কুয়েতে নিয়ে গেছেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে অনেকেই কাজ পাননি। কেউ কাজ পেলেও বেতন পেয়েছেন অনেক কম। দিনে তাদের কাজ করতে হয়েছে ১৬ ঘণ্টা। বাইরে কোথাও কাজ করতে গেলে পাপুলের লোকজনকে অতিরিক্ত টাকা দিতে হতো। না হলে তাদের ওপর চলতো নির্যাতন। কুয়েত থেকে দেশে ফিরে ভুক্তভোগী কর্মীরা সংবাদমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। প্রতারণার শিকার এই মানুষগুলো দেশেও কাজী পাপুুুলের বিচার দাবি করেছেন।
গত ৬ জুন মানব পাচার, অর্থ পাচার ও কর্মীদের শোষণের অভিযোগে কাজী পাপুলকে গ্রেফতার করে কুয়েতের সিআইডি। এখন রিমান্ডে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে তদন্তকারী কর্মকর্তারা। এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশনের কাছে সাক্ষ্য দিয়েছেন ১২ বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মী। তাদের মধ্যে ১১ কর্মীকে মঙ্গলবার দেশে ফেরত পাঠিয়েছে কুয়েত সরকার।
দেশে ফেরার পর গণমাধ্যমকে তারা বলেন, এমপি কাজী পাপুলের মাধ্যমে তারা কুয়েতে গিয়েছিলেন। কিন্তু কুয়েত বিমানবন্দরে নামার পরপরই তাদের সব স্বপ্ন ভেঙে যায়। তারা জানতে পারেন, বাংলাদেশে যে বেতনের কথা বলা হয়েছিল তা তারা পাবেন না। এছাড়া তাদের প্রতিদিন ১৬ ঘণ্টা কাজ করতে হবে। কিন্তু কয়েক মাস পর তারা চাকরি হারান। তাদের অনেকেই বিমানবন্দরে দিনমজুরের কাজ শুরু করেন। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আবারও কর্মহীন হয়ে পড়েন তারা।
কাজী পাপুলকে আটকের পর কুয়েত পুলিশ ১২ বাংলাদেশিকেও আটক করে। পরে তাদের কাজী পাপুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বলা হয়। তাদের ক্ষতিপূরণ ও দেশে ফেরত পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু ফ্লাইটে ওঠার আগে তাদের হাতে ধরিয়ে দেয় মাত্র ১৫০ কুয়েতি দিনার (১ কুয়েতি দিনারে ২৭৬ বাংলাদেশি টাকা)। তা নিয়েই তারা ঢাকায় আসেন।
আব্দুল আলিম নামে এক কর্মী জানান, তিনি সাড়ে ৭ লাখ টাকা দিয়েছিলেন কুয়েতে যাওয়ার জন্য। বলা হয়েছিল, মাসে বেতন দেওয়া হবে ১৪০ দিনার। কিন্তু দিনে ১৬ ঘণ্টা কাজ করার পর মাসে বেতন দেওয়া হয় ১০০ কুয়েতি দিনার। তার অভিযোগ, সেখানে পাপুলের লোকদের প্রতিদিন আট দিনার দিয়ে তিনি খুচরা কাজ করার অনুমতি পেয়েছিলেন। আমান ও মাহবুব নামের দুই ব্যক্তি তার কাছ থেকে সেই টাকা নিত। আলিম বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেছে। তিনি যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।
আলম নামে এক কর্মী বলেন, ‘আমি চাকরি পাই নাই। কোম্পানি আমাদের জন্য দুই মাসের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছিল। তারপর আমাকে বিমানবন্দরে পাঠানো হয়। বিমানবন্দরে কাজ পাওয়ার জন্য এমপি পাপুলের লোকদের প্রতিদিন ১০ দিনার দিতে হতো।’
উল্লেখ্য, তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাজী পাপুলকে আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির আদালত। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন, মানব পাচারের ব্যবসা অব্যাহত রাখতে কুয়েতের এক আমলাসহ তিন কর্মকর্তাকে ২১ লাখ দিনার (বাংলাদেশি টাকা ৫৭ কোটি ৫৪ লাখ) ঘুষ দিয়েছেন।
