করোনা ফিরে আসায় কঠোর বিধিনিষেধের পথে বেইজিং

আপডেট : ১৮ জুন ২০২০, ০৯:১৩

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে নতুন করে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় বুধবার কয়েক হাজার ফ্লাইট বাতিল এবং স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বেইজিং থেকে বাইরে না যাওয়ার জন্য শহরের অধিবাসীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা সামলাতে কঠোর বিধিনিষেধের পথে হাঁটছে চীনা কর্তৃপক্ষ।

বেইজিংয়ে বুধবার নতুন করে ৩১ জনের করোনা শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে চীনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। দ্বিতীয় ধাপে সব মিলিয়ে দেশটিতে ১৩৭ জনের শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১০৬ জনই বেইজিংয়ের। শহরটির মুখপাত্র জু হিজিয়ান সতর্ক করে বলেছেন, ‘রাজধানীতে মহামারি পরিস্থিতি অত্যন্ত মারাত্মক। এই মুহূর্তে কোভিড-১৯ এর বিস্তার ঠেকাতে আমাদের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বুধবার কমপক্ষে ১ হাজার ২৫৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। করোনার বিস্তার ঠেকাতে বেইজিংয়ের প্রায় ৩০টি আবাসিক এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। বেইজিংয়ের মাঝারি ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। কেউ শহরে প্রবেশ করলে, তাকে বাধ্যতামূলকভাবে কোভিড-১৯ টেস্ট করানোর কথা বলা হয়েছে। বেইজিং থেকে যারা এর মধ্যে অন্য প্রদেশে গেছে, তাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। প্রথম দফার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর বেইজিংয়ের বেশির ভাগ স্কুল খোলা হয়েছিল। এখন তা ফের বন্ধ করা দেওয়া হয়েছে।

বেইজিংয়ে করোনার সংক্রমণের উত্স শহরটির একটি পাইকারি খাদ্যের বাজার বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন করে প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর বেইজিংয়ের অন্তত ১১টি মার্কেট এবং হাজার হাজার খাবারের দোকান ও অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে। প্রতিদিন শহরটির হাজার হাজার মানুষের করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। করোনার উত্পত্তিস্থল চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে মাস দুয়েক আগেই ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। কিন্তু রাজধানী বেইজিংয়ে দ্বিতীয় দফায় করোনা সংক্রমণের ঢেউয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিবিসি ও এএফপি