আগৈলঝাড়ায় সেচ মৌসুমে খালে বাঁধ পানি সংকটে চাষাবাদ ব্যাহত

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:২৬

আগৈলঝাড়ায় চলতি বোরো মৌসুমে কৃষক আগাম আবাদে নামলেও সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাস্তা ও ব্রিজ উন্নয়ন কাজের জন্য উপজেলার প্রধান খালের মুখে দুইটি বাঁধ দেওয়ার কারণে পানির সমস্যায় দুই সহস্রাধিক কৃষক ধানের চারা রোপণ করতে পারছে না। ফলে উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষকেরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি বোরো মৌসুমে ইতোমধ্যেই এক হাজার সাতশ’ হেক্টর জমিতে আগাম বোরো ধান রোপণ করেছেন চাষিরা। উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৩ হাজার ৩১৩ মে.টন চাল। 

উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র মণ্ডল জানান, চলতি বছর উপজেলার পাঁচটি  ইউনিয়নে মোট ৯ হাজার ৬৬৩ হেক্টর জমি ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড ৬ হাজার ৫৪৭ হেক্টর ও উফসী ৩ হাজার ১১৬ হেক্টর জমি। কৃষি বিভাগ উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৪৩৩১৩ মে.টন চাল।

রাজিহার গ্রামের চাষি কমলেশ হালদারসহ অর্ধশতাধিক চাষিরা জানান, বরিশাল সড়ক বিভাগের আওতায় উপজেলা সদর থেকে ঘোষেরহাট পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন ও থানার সামনে ব্রিজ নির্মাণ কাজের জন্য উপজেলা সদর এলাকায় রাজিহার ও গৈলা খালের মুখে দুইটি বাঁধ দেয়ার কারণে বর্তমানে চাষিরা ইরি ব্লকে পানি সেচ দিতে না পেরে ধানের চারা রোপণ করতে পারছে না। প্রধান খালে বাঁধ দেয়ায় ওই খালসহ শাখা খালগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় ইরি ব্লকের মেশিনগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অথচ সেচ কাজের জন্য পৌষ মাস থেকে চৈত্রমাস পর্যন্ত চাষিদের মেশিন চালানো দরকার। চাষিরা আরো বলেন, উন্নয়ন কাজের জন্য চাষিদের কথা বিবেচনা করে খালে পানি চলাচলের ব্যবস্থা রাখার দরকার ছিল। কিন্তু ঠিকাদার খামখেয়ালী করে বাঁধ দিয়ে পানি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। বাঁধ অপসারণ বা পানি চলাচলের জন্য চাষিরা পুনরায় নির্বাচিত এমপি আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ’র হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 

খালে দেওয়া ওই দুইটি বাঁধ দ্রুত অপসারণ না করলে উপজেলা সদরের উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চল বিশেষ করে রাজিহার ও গৈলা ইউনিয়নের সমগ্র এলাকা এবং বাকাল ইউনিয়নের আংশিক এলাকায় পানি সেচবন্ধ থাকায় চাষিদের কাঙ্ক্ষিত উত্পাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়বে চাষিরা।  উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নাসিরউদ্দিন বলেন, বাঁধের কারণে পানি সংকটের জন্য চাষিদের চাষাবাদ সমস্যার কথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। পানির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত চাষি ও ব্লকের তালিকাও তাকে দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস জানান, বাঁধের কারণে বড় ৩০ থেকে ৩৫টি ব্লক ক্ষতিগ্রস্তের তালিকার পাশাপাশি আরো অনেক ছোট ব্লক ক্ষতি হবে। বিষয়টি তার দপ্তরের না হওয়ার পরেও চাষিদের স্বার্থ চিন্তা করে তিনি বরিশাল সওজ কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, জেলা প্রশাসক ও সর্বোপরি স্থানীয় এমপির সহযোগিতায় সমন্বয় করে সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

এ ব্যাপারে বরিশাল সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, উন্নয়ন কাজ সবার দরকার। আগৈলঝাড়া ইউএনওর সঙ্গে কথা বলে কতটুকু সময়ের মধ্যে কাজ করা দরকার এবং আবহাওয়ার দিকে নজর রেখে কাজ শুরু করা উচিত।