এক গরিব বুড়ো পথিকের পথ চলতে চলতে রাত নেমে এল। তিনি সামনের এক ধনী বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় চাইলেন। বাড়ির ধনী গিন্নি দরজায় দাঁড়িয়ে গালমন্দ করে কুকুর লেলিয়ে দিয়ে বুড়ো পথিককে তাড়িয়ে দিল। বুড়ো পথিক আরেকটু সামনে গিয়ে এক কুঁড়েঘর দেখে সেখানে হাঁক ছেড়ে আশ্রয় চাইলেন। বাড়ির গরিব গিন্নি ভদ্রভাবে বুড়ো পথিককে ঘরে আসতে বললেন। রাত্রিযাপনের অনুরোধ করলেন। বুড়ো পথিক ঘরে গিয়ে দেখেন—বিধবা গরিব গিন্নির সন্তানেরা ছেঁড়া ন্যাকড়া পরে আছে। তিনি বললেন, বাচ্চাদের নতুন কাপড় সেলাই করে দাও না কেন?
গিন্নি আক্ষেপ করে বললেন, খাবার পয়সাই জোটে না, আবার নতুন কাপড়!
বুড়ো পথিক সব শুনলেন, কিন্তু কিছুই বললেন না। গিন্নি রাতের খাবারের জন্য পথিককে অনুরোধ করলেন। পথিকের পেট ভরা বলে না খেয়ে নিজের থলে থেকে বাচ্চাদের এটা-ওটা খেতে দিলেন। তারপর সবাই ঘুমিয়ে গেল। ভোরে উঠে বুড়ো পথিক বিদায় নিয়ে যাওয়ার সময় গিন্নিকে বলে গেলেন, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এক কাজেই চলবে তোমার। গিন্নি কিছুই বুঝলেন না এসবের। বুড়ো পথিক চলে যাওয়ার পর তিনি ভাবলেন ঘরে সামান্য যে কাপড় আছে তা দিয়ে বাচ্চাদের একজনের জন্য অন্তত একটা জামা বানানো যাক। কিন্তু মাপার ফিতা নেই। তাই তিনি প্রতিবেশী ধনী গিন্নির বাড়ি থেকে ফিতা চেয়ে এনে কাপড়ের টুকরা বের করে মাপতে শুরু করলেন। সারাদিন কাপড় মেপে ঘর ভরে ফেললেন। যখন সন্ধ্যা হলো কেবল তখনি কাপড়ের শেষ মাথা পেলেন। তখন বুঝতে পারলেন বুড়ো পথিক সকালে কী বলেছিলেন। তিনি মনে মনে খুব খুশি হলেন, যাক এবার বাচ্চাদের কাপড়ের অভাব থাকবে না। ধনী গিন্নির ফিতা ফেরত দিতে গিয়ে সব খুলে বললেন তাকে।
সব শুনে ধনী গিন্নি আকাশ থেকে পড়ল। ঘোড়া দিয়ে লোক পাঠিয়ে বুড়ো পথিককে ধরে আনতে বলল। লোকটি ঘোড়া ছুটিয়ে পরের দিন বুড়ো পথিকের সাক্ষাত্ পেল। সঙ্গে আসার জন্য অনুরোধ করল, কিন্তু বুড়ো আসতে চান না। যখন লোকটি বলল, আপনাকে না নিয়ে ফিরলে আমার খুব সমস্যা, তখন বুড়ো রাজি হয়ে তার সঙ্গে এলেন। ধনী গিন্নি চারদিন ধরে আপ্যায়ন করে খাওয়াল, কিন্তু বুড়োর যাওয়ার নাম নেই। গিন্নির আর তর সয় না—কখন বুড়ো যাবে আর যাওয়ার সময় মন্ত্র দিয়ে যাবে। গিন্নির উসখুস দেখে বুড়ো পথিক বুঝতে পারলেন। যাওয়ার জন্য বের হলেন। বুড়ো চলে যাচ্ছেন, কিন্তু কিছুই বলছেন না। তখন ধনী গিন্নিই মনে করিয়ে দিল কিছু বলে যাওয়ার জন্য। বুড়ো পথিক তার দিকে ফিরে তাকিয়ে বললেন, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এক কাজেই চলবে তোমার। বলে বুড়ো চলে গেলেন। ধনী গিন্নি মনের খুশিতে কাপড় মাপতে যাবে আর তখনই তার হাঁচি এল—হ্যাঁচ্চো। তার হাঁচির শব্দে মুরগিগুলো ভয়ে দৌড় লাগাল দিগ্বিদিক। সারাদিন নাওয়া নেই, খাওয়া নেই, কেউ জিজ্ঞেস করলে কোনো কথা নেই, শুধু হ্যাঁচ্চো আর হ্যাঁচ্চো। সেই হাঁচি থামল যখন সন্ধ্যা হলো তখন।
[এন্তোনীয় কাহিনির ইংরেজি থেকে অনুবাদ]
