চট্টগ্রামে বুধবার ভোর রাত থেকে হালকা থেকে ভারী টানা বর্ষণ শুরু হয়েছে। বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পাহাড় ধসের আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অফিস। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে গিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান গ্রহণের জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। ১৯টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নগরীতে ১৭টি পাহাড়ে ৮৩৫টি ঝুঁকিপূর্ণ বসতি রয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে পাহাড়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করবে বলে জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
চট্টগ্রামের পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. দেলোয়ার হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের সরে গিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থানের জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। আমরা দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান শুরু করব। নগরীতে কয়েকটি অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেখানে অবস্থানকারীদের সরকারিভাবে খাবার বিতরণ করা হবে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা এলাকায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরিয়ে দিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে।’ প্রতি বছর বর্ষা আসলেই পাহাড়ে অবৈধ বসবাসকারীদের নিয়ে প্রশাসনের তোড়জোর শুরু হয়। কয়েকটি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে দায়িত্ব শেষ করেন প্রশাসন। বৃষ্টি থেমে গেলে প্রশাসনের উচ্ছেদ কার্যক্রমও বন্ধ থাকে। সারা বছর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি চাপা পড়ে থাকে। দিনে সরিয়ে দিলে রাতে পুনরায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ফিরে যাচ্ছে বসবাসকারীরা। অবৈধ বসতিগুলোর পিছনে পাহাড় দখলে রাখা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ইন্ধন রয়েছে। পাহাড় রক্ষায় ইতিপূর্বে গঠিত সরকারি কমিটির সুপারিশ এক যুগেও বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় সরকারি ও বেসরকারি মালিকানাধীন পাহাড়গুলোতে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি বেড়েই চলেছে। চট্টগ্রামে কয়টি পাহাড়, কয়টি বসতি ঝুঁকিপূর্ণ, কয়জন অবৈধ দখলদার এবং কারা এই কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত সব কিছুর তালিকা প্রশাসনের কাছে রয়েছে।
পাহাড়ের পাদদেশে নির্মিত বসতিগুলোর মধ্যে অসংখ্য বসতি দ্বিতল ও ত্রিতল বিশিষ্ট পাকা ভবনও রয়েছে। এসব ভবনে রয়েছে বৈধ বিদ্যুত্, গ্যাস ও পানির সংযোগ। জেলা প্রশাসন ইতিপূর্বে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে বিদ্যুত্, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে একাধিকবার সিদ্ধান্ত নিলেও তা সব জায়গায় কার্যকর হয়নি। সরকারি কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, নগরীর বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, কাট্টলী ও চান্দগাঁও ভূমি সার্কেল এলাকার মধ্যে পাহাড় রয়েছে। সুপারিশগুলো উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। সব সুপারিশ এক সঙ্গে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। পাহাড়ের মালিকানা নিয়ে মামলা রয়েছে। এখানে ব্যক্তি মালিকানাধীন পাহাড়ও রয়েছে। কমিটির অনেক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়েছে বলে জানান তিনি। সর্বশেষ, বৃহস্পতিবারই নগরীর কয়েকটি পাহাড় থেকে লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে উদ্বুদ্ধ করার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
