দেশীয় কোম্পানির উত্পাদিত ওষুধের স্ট্রিপের গায়ে মূল্যমান লেখা না থাকায় ক্রেতাসাধারণ অহরহ ঠকছেন। ওষুধ বিক্রিকালে ফার্মেসিগুলোতে করা হচ্ছে দামের হেরফের। বোতলজাত সিরাপসহ এজাতীয় অন্যান্য ওষুধের গায়ে মূল্য মান লেখা থাকলেও স্ট্রিপে ওষুধের দাম লেখা না থাকায় ক্রেতারা প্রতিনিয়ত ঠকছেন বলে রয়েছে অভিযোগ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশে উত্পাদিত নামি-দামি কোম্পানির সব ধরনের ওষুধই ফার্মেসিতে পাওয়া যায়। কিন্তু স্ট্রিপের গায়ে মূল্য লেখা হচ্ছে না। এছাড়া শহর কিংবা গ্রামের ফার্মেসিগুলোতে বিক্রিত ওষুধের কোনো মেমো দেওয়া হচ্ছে না। তবে দেশে উত্পাদিত ওষুধের স্ট্রিপের গায়ে মূল্যমান না লিখে পুরো বক্সভর্তি ওষুধের প্যাকেটে লেখা হচ্ছে নির্দেশিত বিক্রয় মূল্য। বক্সের গায়ে লেখা ঐ দাম দোকানি ছাড়া ক্রেতার পক্ষে দেখার কোনো সুযোগ থাকে না। ভারতসহ অন্যান্য দেশের উত্পাদিত ওষুধের স্ট্রিপে নীল কিংবা কালো কালিতে মোটা রঙে সুস্পষ্ট লেখা থাকে ইনক্লুডিং ট্যাক্স ওষুধের মূল্যমান, উপাদান। মেয়াদ উত্তীর্ণ তারিখসহ স্ট্রিপে লেখা থাকে ট্যাবলেট কিংবা ক্যাপসুল সংখ্যা। কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিষ্ট কুষ্টিয়া জেলা সমিতির সভাপতি আলহাজ রফিকুল আলম টুকু জানান, জনস্বার্থে সব ধরনের ওষুধের গায়ে মূল্যমান লেখা অত্যাবশ্যক হওয়া উচিত। এতে ক্রেতাদের কেউ ঠকাতে পারবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। বেসরকারি ‘সনো হসপিটালের’ স্বত্বাধিকারী চিকিত্সক এ কে এম মুনীর জানান, ওষুধের গায়ে মূল্যমান লেখা না থাকাটা হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার কৌশলমাত্র। এ বিষয়ে তড়িত্ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তিনি সরকারের নীতি-নির্ধারকমহলসহ ওষুধ প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেন। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কুষ্টিয়ার সদ্য প্রাক্তন ড্রাগ সুপার ওয়াহেদুজ্জমান জানান, প্রতিবেশী দেশ ভারতে উত্পাদিত প্রত্যেকটি ওষুধের গায়ে মূল্য লেখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু আমাদের দেশীয় উত্পাদিত ওষুধের স্ট্রিপের গায়ে মূল্যমান লেখার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে বার বার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও তা এখনো বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
