সর্বজনীন স্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে চাই চিকিত্সা খাতে আমূল পরিবর্তন

আপডেট : ১৮ জুন ২০২০, ২১:৪৭

বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রভাবে দেশের স্বাস্থসেবার বর্তমান হাল সম্পর্কে বক্তারা বলেছেন, আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা এমনিতেই নাজুক। করোনাকালে তা আরো প্রকট হয়েছে। তারা বলেন, করোনা মোকাবিলার দুটি উপায়। একটি হলো সংক্রমিত হওয়ার আগেই প্রতিরোধ করা এবং অন্যটি হলো আক্রান্তদের চিকিত্সার সুবন্দোবস্ত করা। দুই ক্ষেত্রেই আমাদের ব্যর্থতা পাহাড় সমান। তবে তুলনামূলক আলোচনায় দেখা যাবে, চিকিত্সাসেবার চেয়ে প্রতিরোধের ক্ষেত্রে আমাদের ব্যর্থতার পাল্লা ভারী। কারণ দীর্ঘ ধারাবাহিকতায় আমাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রধানত স্বাস্থ্যসেবার নামে চিকিত্সাসেবার ব্যবস্থা করে আসছে। এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা খাতে বাজেট বরাদ্দের প্রধান অংশ খরচ হয় পরিচালন ব্যয়, অবকাঠামো নির্মাণ ও ক্রয় সম্পন্ন করতে। জীবনযাপনের চলমান বাস্তবতায় প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়া স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত বাস্তবতাকে ধারণ করার সামর্থ্য স্বাস্থ্যখাতের নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার ‘করোনা সংকট, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও আমাদের প্রস্তাবনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন’—পবা অনলাইনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন, পবার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. লেলিন চৌধুরী, ৭১ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. খালেদ শওকত আলী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। সম্মেলন পরিচালনা করেন পবার সম্পাদক মেসবাহ সুমন।

আলোচনা সভায় বক্তারা করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে দেশের স্বাস্থ্যসংকট মোকাবিলায় আমাদের অসহায়ত্ব, অপ্রস্তুত অবস্থা এবং সীমাবদ্ধতার বিষয় বিবেচনা করে ভালো চিকিত্সাসহ সর্বজনীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পবা চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার ছাড়া কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধিসহ বিক্ষিপ্তভাবে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও ব্যাপক সংস্কারের বিষয়টি পরিলক্ষিত হচ্ছে না। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা, চিকিত্সা ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সব তথ্যের ডাটাবেইজ ডিজিটাইজ করার কাজ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক সম্পন্ন করতে হবে। এতে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করে অর্থসহ সব সম্পদের ব্যবহার সহজতর হবে। তিনি আরো বলেন, চিকিত্সা সংক্রান্ত অব্যবহূত সব যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সম্পদ দ্রুত শনাক্ত করে করোনা চিকিত্সায় ব্যবহার করতে হবে। এবং স্বাস্থ্য শিক্ষার বিষয়টি শিক্ষার সকল স্তরে জৈবিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভাবনাকে ধারণ ও বাস্তবায়নের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে ঢেলে সাজাতে হবে। মন্ত্রণালয় চার ভাগে বিভক্ত করাতে হবে। এগুলো হলো: জনস্বাস্থ্য বিভাগ, মেডিক্যাল শিক্ষা ও চিকিত্সা বিভাগ, স্বাস্থ্য পরিকল্পনা ও সমন্বয় বিভাগ এবং পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ।

স্বাস্থ্যখাতে গবেষণাকে অতিগুরুত্ব প্রদান করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবার চারটি খাতেই গবেষণার গুরুত্ব নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ মোতাবেক জিডিপির ৫ শতাংশ অর্থ পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ হিসাবে উন্নীত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তারা।