মঞ্চে অনুষ্ঠান বন্ধ তাই বলে বন্ধ নেই শিল্পীদের গান গাওয়া। শুধু গান গাওয়া কেন, গান শোনানোও বন্ধ হয়নি। মিলনায়তনে বসে সরাসরি শিল্পীর গান শোনা না হোক তবে ফেসবুকে লাইভ গান শোনার সুযোগ কিন্তু সৃষ্টি করে দিয়েছেন শিল্পীরা। প্রায় নিয়মিতই বিভিন্ন সংগঠন আয়োজন করছে ‘লাইভ’ গানের অনুষ্ঠানের। বিশ্ব সংগীত দিবস উপলক্ষ্যে এবার বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ আয়োজন করেছে পাঁচ দিনের সংগীত উত্সবের। আগামী ২১ জুন বিশ্ব সংগীত দিবস। প্রতিবছর দিবসটিকে ঘিরে রাজধানী জুড়ে অনুষ্ঠিত হয় নানা বর্ণিল আয়োজন। করোনাজনিত পরিস্থিতিতে এবার ভিন্নধর্মী আয়োজন নিয়ে উপস্থিত হয়েছে বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ। অনলাইনে বৈচিত্র্যময় সংগীতাসরের আয়োজন করেছে সংগঠনটি। পঞ্চকবির গানের সঙ্গে লালন ফকির, হাছন রাজা, শাহ আবদুল করিমসহ বাংলার মরমী গীতিকবিদের সুরের আশ্রয়ে সাজানো হয়েছে এ আয়োজন। আসরের সূচনা হলো গতকাল বৃহস্পতিবার। সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের ফেসবুক পেজে ২২ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সুররসিকরা উপভোগ করতে পারবেন এ অনুষ্ঠানমালা। ফেসবুকে ‘বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ’-এর গ্রুপ এ গিয়ে উপভোগ করতে পারবেন এ অনুষ্ঠান। এছাড়া এই লিংকের মাধ্যমেও যেতে পারবেন পেইজে। ঠিকানা হচ্ছে : https://www.facebook.com/ groups/2635285070125355.
গতকাল উদ্বোধনী সন্ধ্যায় রবীন্দ্রনাথ, রজনীকান্ত ও অতুলপ্রসাদের গান শুনিয়েছেন তপন মাহমুদ ও মিতা হক। এবারের আয়োজন প্রসঙ্গে সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. বিশ্বজিত্ রায় বলেন, করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সামাজিক-সাংস্কৃতিক সব কর্মকাণ্ডই স্থবির হয়ে পড়েছে। তবে সংস্কৃতিকর্মীরা ঘরে বসে ফেসবুকের মাধ্যমে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত অবধি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষকে জাগিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই সংগীত দিবসে অনলাইনে পাঁচ দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সংগীতাসরের দ্বিতীয় দিন। নজরুল ও দ্বিজেন্দ্রলালের গান শোনাবেন শাহীন সামাদ ও সুজিত মোস্তফা। শনিবার বিশ্ব সংগীত দিবসের সন্ধ্যায় থাকবে আধুনিক গানের পরিবেশনা। গাইবেন আলম আরা মিনু, অনুপমা মুক্তি, ঐশিকা নদী ও অভিজিত্ দে। চতুর্থ দিন রবিবার শ্রোতারা শুনতে পাবেন লালন, রাধারমণ, হাছন ও করিমের গান। মরমী কবিদের গান পরিবেশন করবেন আবুবকর সিদ্দিক, নারায়ণচন্দ্র শীল, অণিমা মুক্তি গমেজ ও বিশ্বজিত্ রায়। আসরের শেষ দিন সোমবার। এদিন থাকছে সিলেট, রাজশাহী ও বরিশালের লোককবিদের বাণীনির্ভর বিবিধ গান।
