গুল্ম জাতীয় শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদ। এর আরেক নাম রুক্সিনী। ফুলটি এই উপমহাদেশের। বৈজ্ঞানিক নাম Loxara coceinea। ঘন চিরসবুজ রঙ্গন সাধারণত তিন থেকে ছয় মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। গাছের আকৃতি ঝোপালো, শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত। ফুল আকারে ছোটো, নলাকৃতি, থোকা থোকা। পাপড়ির বিন্যাস তারার মতো। পাতা সরল ও প্রতিমুখ। ফুলের প্রতি মঞ্জুরিতে পাপড়ির সংখ্যা চারটি, মাঝে থাকে ক্ষুদ্র আকৃতির পুংদণ্ড।
সাধারণত গ্রীষ্ম ও বর্ষা ঋতুতে এ ফুল ফোটে, অন্যান্য ঋতুতে কম। আমাদের দেশের রঙ্গনের বেশিরভাগই লাল। গোলাপি, হলুদ, কমলা ও সাদা বর্ণেরও প্রজাতি দেখা যায়। সাদা রঙের রঙ্গন ফুলে রয়েছে মৃদু সুগন্ধ এবং এ জাতের আদি নিবাস সিঙ্গাপুর।
আকর্ষণীয় রূপ ও বর্ণের বৈচিত্র্যে রঙ্গন ঐশ্বর্যমণ্ডিত। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মাঝে এ ফুলের জনপ্রিয়তা লক্ষণীয়। চৈত্রসংক্রান্তি ও নববর্ষের সময়ে তাদের রঙ্গন ফুল সংগ্রহ করতে দেখা যায়। বৌদ্ধরা এই ফুলকে ‘বিযু ফুল’ও বলে থাকে। রঙ্গনগাছের কাণ্ড ও শাখা-প্রশাখা বেশ শক্ত। সাধারণত ফল থেকে চারা জন্মে। তবে ডাল কাটিং বা জোড় কলম করেও রঙ্গনের বংশবিস্তার করা যায়। দেখতে সুন্দর বলে রঙ্গন ঠাঁই করে নিয়েছে অফিস-আদালত, পার্ক, বাড়ির ছাদ বা বারান্দার টবে। আর প্রস্ফুটিত রঙ্গন ফুলের সৌন্দর্য স্থায়ী থাকে অনেক দিন পর্যন্ত।
