বকেয়া গ্যাস ও বিদ্যুত্ বিল পরিশোধে এক বছর সময় চায় বিটিএমএ

আপডেট : ১৮ জুন ২০২০, ২২:০৪

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী তৈরি পোশাকের চাহিদা কমে যাওয়ায় তারল্য সংকটে পড়েছে এর ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ হিসেবে বস্ত্র খাত। এ পরিস্থিতিতে গত চার মাসের বিদ্যুত্ ও গ্যাস বিল পরিশোধ না হলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে সরকারের কড়া হুঁশিয়ারিতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এ খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে। সূত্র জানিয়েছে, বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিটিএমএ সম্প্রতি এ ইস্যুতে বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। ঐ চিঠিতে গত মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত চার মাসের গ্যাস ও বিদ্যুত্ বিল আগামী এক বছরের মধ্যে পরিশোধের কথা জানিয়েছে। বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন স্বাক্ষরিত ঐ চিঠিতে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে এ খাতের ভয়াবহ তারল্য সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করে গত চার মাসের বকেয়া বিদ্যুত্ ও গ্যাস বিল জুলাই থেকে পরবর্তী এক বছরের মধ্যে সমান কিস্তিতে পরিশোধের কথা বলা হয়। এ সময়ের বিলের জন্য কোনো সুদ বা জরিমানা আরোপ না করা, সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার আহ্বান জাননো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, করোনার নেতিবাচক প্রভাবে আমাদের  রপ্তানিমুখী স্পিনিং ও উইভিং মিলগুলোর প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার সুতা ও কাপড়ের  রপ্তানি আদেশ বাতিল বা স্তগিত হয়। অন্যদিকে স্থানীয় স্পিনিং ও উইভিং মিল যারা বস্ত্রের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সুতা ও কাপড় তৈরি করে, সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি ও লকডাউনের পরিপ্রেক্ষিতে ১ বৈশাখের বাজার, ঈদুল ফিতর এবং সংশ্লিষ্ট জাকাতের বাজারটি ধরতে না পারায় ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি  টাকার ক্ষতির মধ্যে পড়ে।

পরবর্তীতে সরকারের নির্দেশনায় মিলগুলো চালু হলেও রপ্তানি আদেশ না থাকায় ও স্থানীয় সুতা ও কাপড় বিক্রয়ের মোকামগুলো যা এখনো বন্ধ বা পুরোমাত্রায় চালু হয়নি। ফলে সুতা ও কাপড় বিক্রয় বন্ধ রয়েছে। ফলে মিলগুলোতে কোনো অর্থের জোগান নেই বললেই চলে। এ সময় বলা হয়, করোনা ভাইরাসজনিত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অর্থনীতির চাকা সচল রাখার লক্ষ্যে ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজসহ কয়েকটি প্যাকেজ ঘোষণা করলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে মিলগুলো ঐ সুবিধা গ্রহণ করতে পারেনি। এ পরিস্থিতিতে মিলগুলো আগামীতে শ্রমিক কর্মচারীদের মজুরি ও বেতন প্রদানে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এমনি পরিস্থিতিতে ৩০ জুনের মধ্যে বকেয়া বিদ্যুত্ ও গ্যাস বিল পরিশোধ মিলগুলোর পক্ষে প্রদান করা অসম্ভব হবে।

টেক্সটাইল খাতের এক জন উদ্যোক্তা ইত্তেফাককে বলেন, এখন প্রকৃত অর্থেই উদ্যোক্তাদের জন্য ক্রান্তিকাল চলছে। এ সময়ে বিদ্যুত্ বিল বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত ঠিক হবে না। কারণ উদ্যোক্তাদের হাতে টাকা নেই। কোনো জরিমানা ছাড়া গত চার মাসের বিল পরিশোধের সুযোগ দেওয়া উচিত।