১ এপ্রিল থেকে সব ধরনের ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ কার্যকর হওয়ায় ব্যাংকের ভালো ঋণগ্রহীতাদের ১০ শতাংশ সুদ মওকুফ সুবিধা বাতিল করে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। তবে ভালো গ্রহীতা চিহ্নিতকরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ১ এপ্রিল হতে ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশ নির্ধারিত হওয়ায় বিআরপিডি ২০১৯ সালের ১৬ মের সারকুলার অনুযায়ী কোনো গ্রাহক ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে বিবেচিত হলে তিনি ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত রিবেট প্রাপ্য হবেন। এরপর আর এ সুবিধা পাওয়া যাবে না। তবে ব্যাংক কর্তৃক ভালো ঋণগ্রহীতা চিহ্নিতকরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।
ভালো ঋণগ্রহীতাদের ঋণ তথ্য সিআইবিতে গুড বরোয়ার্স হিসেবে রিপোর্ট করতে হবে। তিন বছর বা তদূর্ধ্ব সময় ধরে ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে চিহ্নিত গ্রাহকদের ছবি, প্রোফাইল ইত্যাদির সমন্বয়ে ব্যাংক বিশেষ বুকলেট বা ম্যাগাজিন প্রকাশ করতে পারবে। এক্ষেত্রে প্রথম প্রকাশের ক্ষেত্রে ভালো ঋণগ্রহীতাদের সংখ্যা বেশি হলে অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ সময় ধরে যে সব ঋণগ্রহীতা ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে চিহ্নিত হবেন তাদের নাম বিশেষ বুকলেট বা ম্যাগাজিনে অন্তর্ভুক্তকরণে অগ্রাধিকার পাবে। ব্যাংকগুলো বার্ষিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভালো ঋণগ্রহীতাদের স্বীকৃতি বা পুরস্কার প্রদান করে তাদের সম্মাননা জ্ঞাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
প্রজ্ঞাপনে ভালো ঋণগ্রহীতা চিহ্নিতকরণের সংজ্ঞাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, চলমান ঋণের ক্ষেত্রে গ্রহীতার ঋণ হিসাব সংশ্লিষ্ট বছরের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত এবং অব্যবহিত পূর্ববর্তী চারটি ত্রৈমাসিকে অশ্রেণীকৃত-স্ট্যান্ডার্ড অবস্থায় থাকলে এবং মঞ্জুরিপত্রের শর্তানুসারে উক্ত ঋণ হিসেবে লেনদেন সন্তোষজনক হলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে বিবেচিত হবেন। তলবি ঋণের ক্ষেত্রে গ্রহীতার সংশ্লিষ্ট বছরের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত এবং অব্যবহিত পূর্ববর্তী চারটি ত্রৈমাসিকে সব তলবি ঋণ অশ্রেণীকৃত-স্ট্যান্ডার্ড অবস্থায় সমন্বিত হলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে বিবেচিত হবেন। মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে গ্রহীতার ঋণ হিসেবে বিগত ১২ মাসের সব কিস্তি নির্ধারিত তারিখের মধ্যে নিয়মিতভাবে পরিশোধিত হলে এবং অব্যবহিত পূর্ববর্তী চারটি ত্রৈমাসিকে অশ্রেণীকৃত-স্ট্যান্ডার্ড অবস্থায় থাকলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে বিবেচিত হবেন। কোনো ঋণগ্রহীতার একাধিক ঋণ থাকলে প্রতিটি ঋণের জন্য উল্লিখিত শর্তসমূহ পরিপালন করলেই কেবল সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতা ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে বিবেচিত হবেন। তবে সব ক্ষেত্রেই কোনো ব্যাংকে বিগত ১২ মাসে কোনো গ্রাহক বা তা স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে বিরূপমানে শ্রেণীকৃত ঋণ থাকলে উক্ত গ্রাহক ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে বিবেচিত হবেন না। এছাড়া যৌক্তিক কারণে ঋণ হিসাব প্রথমবার পুনঃ তপশিল বা পুনর্গঠনের মাধ্যমে নিয়মিত করা হলে এসব শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে ঋণগ্রহীতাকে ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে।
