সিলেটে লকডাউন নিয়ে জটিলতা

আপডেট : ১৮ জুন ২০২০, ২২:২৮

সিলেট বিভাগে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। তাই ‘রেড জোন’ এলাকা সিলেট লকডাউনে যাওয়ার কথা চলছে গত কয়েকদিন থেকেই। কিন্তু সিলেটে লকডাউন নিয়ে এখন জটিলতা শুরু হয়েছে। কবে থেকে এটি বাস্তবায়ন হচ্ছে এখনই কেউ তা বলতে পারছেন না। জেলা প্রশাসন থেকে বলা হচ্ছে, নতুন করে জোনিং হবে, তারপর লকডাউনের সিদ্ধান্ত।

এদিকে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, এ বিভাগে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮০১ জনে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬০০ জন আক্রান্ত। বিভাগের বাকি তিন জেলা সুনামগঞ্জে ৭১১, হবিগঞ্জে ২৬১ এবং মৌলভীবাজারে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২২৯। সিলেট বিভাগে করোনায় এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৫৫ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলায়ই মারা গেছেন ৪৩ জন। সিলেট বিভাগের এ ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার কয়েকটি স্থানকে কয়েকদিন আগেই ‘রেড জোন’ ঘোষণা করা হয়। সূত্র মতে সুনামগঞ্জের লকডাউনের বিষয়টি ঢাকার অনুমোদনের অপেক্ষায়।

অন্যদিকে সিলেটে লকডাউনের বিষয়ে প্রথমে মঙ্গলবার সার্কিট হাইজের সভায় বলা হলো সিসিকের ১-২৪ নম্বর ওয়ার্ডসহ আরো কয়েকটি এলাকায় লকডাউন দেওয়া হবে বৃহস্পতিবার থেকে। ঐ দিন সন্ধ্যায় প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, বৃহস্পতিবার নয়, সিসিকের কাউন্সিলররা চান লকডাউন দেওয়া হোক শনিবার থেকে। বুধবারে চূড়ান্ত বৈঠকেও বিষয়টির ফয়সালা হলো না। এখন সিলেটে লকডাউনের বিষয়টি নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। সূত্র মতে, সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে সিলেটে রেড, ইয়োলো, গ্রিন-যে জোনিং করা হয়েছে তা সঠিক হয়নি। তাই ‘করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ বিষয়ক’ সিলেট জেলা কমিটি তা গ্রহণ না করে আবার জোনিং করার পরামর্শ দিয়েছে। তবে প্রথম থেকেই সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী কড়া লকডাউনের পক্ষে মত দিয়ে বলে আসছেন—‘সবাইকে কৃচ্ছ্রতা সাধন করতে হবে। কেউ বাসার গেট থেকে বের হবে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দরকার হলে তারা বিষয়টি দেখবেন কীভাবে এর সুরাহা করা যায়।’ 

বুধবার অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত বৈঠকে সিলেট জেলা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডলসহ প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আসলাম উদ্দিন জানান, তালিকায় আক্রান্তদের ঠিকানায় গোলমাল। তাই জোনিংও সঠিক হবে না। এখন নতুন করে জোনিং হবে। এ কাজে পুলিশ সহায়তা দেবে। তাদের কাছে অনেক তথ্য রয়েছে। এরপর লকডাউনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত  হবে।