লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের সেনাবাহিনীর মধ্যে গত সোমবার প্রাণঘাতী সংঘর্ষ হয়েছে। হিমালয় পর্বতমালায় চীন-ভারতের বিরোধপূর্ণ সীমান্ত অঞ্চলে এই সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ২০ ভারতীয় সেনা। এই ঘটনায় দুই দেশ একে অপরকে দুষছে। উত্তেজনা বেড়েই চলেছে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে। এর মধ্যেই চীনা সরকারের মুখপত্র হিসেবে পরিচিত গ্লোবাল টাইমস পত্রিকা ভারতকে সতর্ক করে বলেছে, সীমান্তে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে ত্রিমুখী সামরিক চাপের মুখে পড়তে হতে পারে দিল্লি। চীন, পাকিস্তান এমনকি নেপালের কাছ থেকে সামরিক চাপ আসতে পারে। ভারতের ইকোনমিক টাইমস এ খবর জানিয়েছে। সাংহাই একাডেমি অব সোশ্যাল সায়ন্সেসের ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন্স ইনস্টিটিউটের একজন রিসার্চ ফেলো হু ঝিয়ং বুধবার গ্লোবাল টাইমসকে বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি পরিবর্তনের কোনো ইচ্ছা চীনের নেই। ওই ঘটনা চীনা অংশেই ঘটেছে। ভারতীয় পক্ষ থেকেই উসকানি দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, ভারত একই সময়ে চীন, পাকিস্তান ও নেপালের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধে জড়িয়েছে। পাকিস্তান কিন্তু চীনের নির্ভরযোগ্য কৌশলগত অংশীদার। নেপালের সঙ্গেও বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ভারত সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ালে দুই দিক, এমনকি তিনটি দিক থেকে সামরিক চাপের মুখে পড়তে পারে। এটি দিল্লি সামরিক সক্ষমতার অনেক বেশি বাইরে চলে যাবে; যা ভারতের জন্য একটি বিপর্যকর পরাজয় হতে পারে। তিনি বলেন, ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের এই পরিস্থিতি ভুল ভাবে নেওয়া উচিত নয়। ভারতের কেউ কেউ মনে করেন, চীন-মার্কিন সম্পর্কের অবনতি বেইজিংকে চ্যালেঞ্জ জানানোর জন্য তাদের সুযোগ করে দেবে—এটা ভাবলে ভুল হবে। চীনা বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে গ্লোবাল টাইমস আরো লিখেছে, মোদি সরকারের উচিত হবে ভারতে মার্কিনপন্থি শক্তি নিয়ন্ত্রণ করা। কেননা চীনকে উসকে দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড গুরুতর পরিণতি ঘটাতে পারে। তাই ভারতের উচিত হবে—এ ধরনের ঘটনা যেন আবারও না ঘটে, সে ব্যবস্থা করা। কারণ, চীন তাদের সীমান্ত, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবকিছু করবে।
