দেশে ফেরা ৭২৫০ জন অভিবাসী কর্মীকে ব্র্যাকের ৩ কোটি টাকা সহায়তা

আপডেট : ১৯ জুন ২০২০, ০০:৩১

নতুন করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারির এই সংকটময় সময়ে চাকরি হারিয়ে বা অসহায় হয়ে দেশে ফেরত আসা ৭ হাজার ২৫০ জন অভিবাসী কর্মীকে জরুরি সহায়তা হিসেবে নগদ ৩ কোটি টাকা অর্থ সহায়তা দিচ্ছে ব্র্যাক। গতকাল বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং স্থানীয়ভাবে ব্র্যাকের মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের দ্বারা বিদেশফেরত কর্মীদের প্রকৃত অবস্থা যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তালিকা প্রস্তুত করে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশের মাধ্যমে নগদ এই অর্থ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এরই মধ্যে ১ হাজার ৫৪৫ জন বিদেশফেরত কর্মীর কাছে ৬১ লাখ ৮০ হাজার টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাকি ৫ হাজার ৭০৫ জনের যাচাই-বাছাই চলছে। তারাও দ্রুততম সময়ের মধ্যে জরুরি এই অর্থ সহায়তা পাবেন।

মূলত ব্র্যাকের নিজস্ব অর্থায়ন, রয়েল ড্যানিশ দূতাবাস, সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কোঅপারেশন (এসডিসি), প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্থায়নে আইওএম-ব্র্যাকের যৌথভাবে পরিচালিত প্রত্যাশা প্রকল্প, চিলড্রেন ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড ফাউন্ডেশন (সিফ) এবং ব্র্যাক ইউকে-এর সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে নগদ এই অর্থ প্রদান করা হচ্ছে। ব্র্যাক জানিয়েছে, শুধু জরুরি সহায়তা নয়, ব্র্যাকের নিজস্ব অর্থায়ন ও দাতাদের সহায়তায় বিদেশফেরতের মনোসামাজিক সেবা, দক্ষতা তৈরি, অর্থনৈতিক পুনরেকত্রীকরণের জন্য আগামী তিন বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকা পরিকল্পিতভাবে খরচের পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ সচিব মুনিরুছ সালেহীন বলেন, ব্র্যাকের এই নগদ অর্থ সহায়তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। আমাদের সবাইকে এভাবে দাঁড়াতে হবে। সরকার ৭০০ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে বিদেশফেরতদের দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বলে তিনি জানান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ঢাকার ডেনমার্ক দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন রেফিকা হেইতা কোপেনহেগেন থেকে যুক্ত হয়ে বলেন, কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশে ফিরতে শুরু করেন। ব্র্যাক তখন জরুরি পরিস্থিতিতে বিদেশফেরতদের সহায়তা করার জন্য আমাদের প্রস্তাব দেয়। এমন বিরূপ পরিস্থিতিতেও যে মানবিকভাবে সবার পাশে দাঁড়ানোর কৌশল বের করা যায় সেটি কিন্তু ব্র্যাক করে দেখাল। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্র্যাকের সিনিয়র ডিরেক্টর কে এ এম মোর্শেদ।  অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা ও মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের মাইগ্রেশন কর্মসূচি প্রধান শরিফুল হাসান। অন্যান্যের মধ্যে বায়রার মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান বক্তব্য রাখেন।