এমপি পাপুলকে সহায়তা করায় দুই কুয়েতিকে গ্রেফতারের নির্দেশ

আপডেট : ১৯ জুন ২০২০, ০০:৩২

কুয়েতে আটক লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম ওরফে কাজী পাপুলকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে দেশটির পাবলিক প্রসিকিউশনের সদস্যরা। জিজ্ঞাসাবাদে কাজী পাপুল কুয়েতের বেশ কয়েক জন সরকারি কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করেছেন; যারা তার কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে বিভিন্ন সময় তাকে সহায়তা করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কুয়েতে মন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আমলাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির আদালত। আরব টাইমসের এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত ৬ জুন মানব পাচার, অর্থ পাচার ও কর্মীদের শোষণের অভিযোগে কাজী পাপুলকে গ্রেফতার করে কুয়েতের সিআইডি। এখন রিমান্ডে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে তদন্তকারী কর্মকর্তারা। এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশনের কাছে সাক্ষ্য দিয়েছেন ১২ বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মী। ঐ খবরে বলা হয়েছে, কুয়েতে শ্রমিক আনার জন্য এমপি কাজী পাপুল কুয়েতের দুই নাগরিককে কী পরিমাণ অর্থ দিয়েছেন তা বিস্তারিত জানিয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন তারা। এরপর কুয়েতের দুই নাগরিকের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে কাজ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এদিকে টাইমস কুয়েতের এক খবরে বলা হয়েছে, কাজী পাপুল তার বিরুদ্ধে আনা মানব পাচার, অর্থ পাচার, কর্মীদের শোষণ, প্রতারণা ও অবৈধ ভিসা ব্যবসার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি কুয়েতের কিছু কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। যার বিনিময়ে কুয়েতের কর্মকর্তারা তার কোম্পানির লেনদেন সম্পন্ন করতে সহায়তা করেছেন। কাজী পাপুলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, কুয়েতে তার চারটি ক্লিনিং কোম্পানি রয়েছে। তিনি ১৯৮৪ সালে কুয়েত যান। তার সঙ্গে কুয়েত সরকারের নানা ক্ষেত্রে অন্তত ৩৪টি চুক্তি রয়েছে। একই সঙ্গে দেশটিতে তার কোম্পানির হয়ে অন্তত ৯ হাজার শ্রমিক কাজ করে।

ঐ খবরে বলা হয়েছে, প্রসিকিউশন এরই মধ্যে কাজী পাপুলের কোম্পানিতে কর্মরত অন্তত ২০ কর্মীকে তলব করেছে। কর্মীদের বেতন দেওয়ার বিষয়ে তাদের বক্তব্য শোনা হয়েছে।