আমাদের দেশে অত্যন্ত সুস্বাদু ফল মাল্টার বেশ কদর এবং চাহিদা রয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে মাল্টা আমদানি করা হয়। বিদেশি মাল্টা বাজারে বেশ চড়া দামে বিক্রি হয়ে থাকে। আমাদের দেশে মাল্টার চাহিদা এবং জনপ্রিয়তার কারণে এর চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ২০০৩ সালের দিকে গবেষণা করে বারি মাল্টা-১ উদ্ভাবন করে। তারপর এই মাল্টার চারা সারা দেশে বিতরণ করা হয়।
চাষিরা মাল্টার চাষ করে বেশ সফল হয়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাল্টার চাষ হচ্ছে। বাংলাদেশের আবহাওয়া এবং মাটি মাল্টা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। কম বৃষ্টিবহুল সুনির্দিষ্ট গ্রীষ্ম এবং শীতকালবিশিষ্ট শুষ্ক ও উষ্ণ জলবায়ু মাল্টা চাষের উপযোগী। চারা রোপণের পর অল্প সময়ের মধ্যে গাছে ফুল আসে। ফাল্গুন মাস থেকে চৈত্রমাস পর্যন্ত গাছে ফুল আসে। কার্তিক মাসের দিকে ফল আহরণের উপযোগী হয়।
আমাদের দেশে উত্পাদিত মাল্টাগুলো আমদানিকৃত মাল্টার চেয়ে গুণগত দিক দিয়ে বেশ উন্নত, সুস্বাদু এবং সুমিষ্ট। মাল্টা চাষের সফলতা এবং সম্ভাবনা দেখে দেশের অনেক চাষি মাল্টা চাষে এগিয়ে আসছেন। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলে ব্যাপকভিত্তিতে মাল্টা চাষ হচ্ছে। পার্বত্য অঞ্চল ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যিকভিত্তিতে মাল্টা চাষ হচ্ছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বিশেষ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের শিবপুর এলাকায় ২০১১ সালের দিকে বারি মাল্টা-১ জাতের পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করে। নিবিড় পরিচর্যা ও গবেষণার পর সফলতা আসে। ২০১৪ সালের দিকে সিলেটের জৈন্তাপুরে ১৫ হাজার চারা বিতরণ করা হয়। এসব গাছে মাল্টার ফলন দেখে চাষিরা উত্সাহিত হয়। বর্তমানে মাল্টা চাষ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
