ঋ-র কোনো বন্ধু নেই। আর আমার, বন্ধু রাখার জায়গা নেই প্রায়। সন্ধেবেলা শিশির পড়ছে, আমি আর ঋ মাঠে বসে আছি। আমি বলি, ‘এত গল্প জমে আছে আমার কাছে, তুমি শুনতে শুনতে বোরড ফিল করবে না তো?’ সে হাসে। বলে, ‘একটু অদলবদল ছাড়া সব মানুষের আসলে একই গল্প। তুমি যেভাবেই বলো না কেন, চমকাব না। ঘোর লাগার সময় কেটে গেছে আমার। হয়তো সেজন্যই নির্বান্ধব। তড়িঘড়ি করে বলার কিছু নেই। আবার ধীরে আস্তে অনেক ভেবেও বলার কিছু নেই।’
আমি ঋ’কে মুগ্ধ করার জন্য বললাম, আচ্ছা, তোমার কি ঐ গল্পটা জানা আছে যে এক বৃদ্ধ লোক নিজেকেই চিঠি লিখত ও পোস্টঅফিসে গিয়ে চিঠি পোস্ট করে চলে আসত। এরপর সেই চিঠির অপেক্ষায় থাকত। পিয়ন এসে চিঠি দিয়ে গেলে সে পড়ত। এভাবে একশো একুশটা চিঠি লিখেছিল প্রেরক ও প্রাপক হিসেবে।
ঋ বলল, জগত্ পুরনো। মানুষ নতুন। এ গল্প নতুন ভার্সন। পুরনোটা এমন, এক আদিবাসী দ্বীপে একা থাকত। কেউ কথা বলার ছিল না। তাই কাজকর্মের ফাঁকে সে দুই কণ্ঠস্বরে কথা বলত। এক নারীকণ্ঠ। অন্যটি তার। পরে একদিন তার কণ্ঠই নারীকণ্ঠের মতোন হয়ে গেল। আর আসল কণ্ঠ ফিরে পেল না।
আমি বললাম, তুমি এ দুটি গল্পে কী পাও?
ঋ বলল, মানুষের একাকিত্ব। আসলে মায়ার সংসারে ভাষার সংসারে আমরা প্যান্টোমাইম। আমরা কতোটুকুই বা ভাষায় প্রকাশ করতে পারি? পারি না। গল্পের ভাষার তো তাই ভাণ্ডার বড়ো থাকার কথা নয়। আপনি পারবেন আমার অনুভূতি অনুবাদ করতে? বা আমি আপনার?
এরপর অনেকক্ষণ ঝড়ের পর হিম হাওয়া আর ফোঁটাফোঁটা পানি ঝরে পড়ে, সেভাবে আমি ঝরে পড়লাম। ঋ কিছুই জানল না। জানিবে না কোনোদিন আর।
