অভিযোগটা খুবই গুরুতর। ২০১১ বিশ্বকাপের ফাইনাল পাতানো ছিল, শ্রীলঙ্কার সাবেক ক্রীড়ামন্ত্রী মহিন্দানন্দ আলুথগামাগে এমন মন্তব্য করেছেন। এখানেই শেষ নয়, শ্রীলঙ্কার বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় এতে জড়িত ছিল—বিস্ফোরক এই অভিযোগও এনেছেন।
ঐদিও তার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন সাবেক দুই লঙ্কান অধিনায়ক মাহেলা জয়াবর্ধনে ও কুমার সাঙ্গাকারা। কড়া এই অভিযোগ প্রমাণের আহ্বানও জানিয়েছেন তারা। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে হওয়া ম্যাচে ২৭৪ রান করে শ্রীলঙ্কা। ১০ বল বাকি থাকতে ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় ভারত। সঙ্গে ঘরে তোলে বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় শিরোপা। শ্রীলঙ্কার হয়ে ঐ ফাইনালে সেঞ্চুরি করা জয়াবর্ধনে এক টুইটে অভিযোগের প্রমাণ দিতে বলেছেন আলুথগামাগেকে।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কী খুব কাছে? মনে হচ্ছে সার্কাস শুরু হয়ে গেছে। নাম ও প্রমাণ কই?’ একই সুর সেই ম্যাচে লঙ্কানদের নেতৃত্ব দেওয়া সাঙ্গাকারার কণ্ঠেও। ফেসবুকে তিনি জানিয়েছেন নিজেরঅভিমত। বলেছেন, ‘সাবেক মন্ত্রী মহিন্দানন্দ আলুথগামাগের নিজের ‘প্রমাণ’ আইসিসি ও দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের কাছে নিয়ে যাওয়া দরকার, যেন অভিযোগের পূর্ণ তদন্ত হতে পারে। এটা খুবই দুর্বোধ্য যে, এমন মারাত্মক একটি বিষয় সামনে আনার জন্য তিনি এতদিন অপেক্ষা করেছেন! স্মৃতি ঠিক থেকে থাকলে আমার মনে হয়, সে সময় তিনিই ক্রীড়ামন্ত্রী ছিলেন।’
শ্রীলঙ্কান সাংসদ আলুথগামাগে ৯ বছর আগের ম্যাচটি নিয়ে বৃহস্পতিবার স্থানীয় গণমাধ্যমে অভিযোগের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘২০১১ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল পাতানো ছিল। এটা হয়েছিল যখন আমি ক্রীড়ামন্ত্রী ছিলাম। আমি দায়িত্বের সঙ্গে বলছি; তবে দেশের স্বার্থে বিস্তারিত জানাচ্ছি না। ২০১১ সালে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ, যেটা আমরা জিততে পারতাম আগে থেকেই সেটা পাতানো ছিল।’ তবে একটা ব্যাপার সত্যি যে—ঐ ম্যাচটিকে ঘিরে অনেকদিন ধরেই কানাঘুষা ছিল। ম্যাচে ধারাভাষ্যকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে শ্রীলঙ্কার ১৯৯৬ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা। তিনিও ২০১১ বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে সন্দেহের আঙুল তুলেছিলেন বছর তিনেক আগে।
২০১৭ সালের জুলাইয়ে রানাতুঙ্গা বলেন, ‘যখন আমরা হেরে যাই, আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল। মনের মধ্যে একটা সন্দেহ জাগে। শ্রীলঙ্কার আসলে কী হয়েছিল, অবশ্যই ২০১১ বিশ্বকাপের ফাইনাল নিয়ে তদন্ত করা উচিত। আমি এখনই সবকিছু বলতে চাচ্ছি না। তবে একদিন বলব। অবশ্যই এটা নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত।’
