করোনার মধ্যেই বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম

আপডেট : ১৯ জুন ২০২০, ২২:২৮

মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই বাড়তে শুরু করেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম। চাল, ডাল থেকে শুরু করে পেঁয়াজ, রসুন সব পণ্যের দামই বাড়তি। এছাড়া সবজির দামও ঊর্ধ্বমুখী। ৫০/৬০ টাকা কেজির নিচে কোনো ধরনের সবজি নেই।

গতকাল সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) তাদের দৈনন্দিন বাজারদরের প্রতিবেদনেও বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ার তথ্য তুলে ধরেছে। এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছে স্বল্প আয়ের মানুষ। করোনার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়ায় অনেক শ্রমজীবী মানুষের দিন চলছে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা সংকটের কারণে ব্যবসায়ীরা ধান-চাল মজুত করছে। এছাড়া ধানের দাম বেশি। এর প্রভাব পড়েছে চালের দামে। রাজধানীর খুচরা বাজারে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এরমধ্যে মোটা চাল ইরি/স্বর্ণা কেজিতে ২ টাকা বেড়ে ৪০ থেকে ৪৬ টাকা, সরু চাল নাজিরশাইল/মিনিকেট ৪ টাকা বেড়ে ৫৪ থেকে ৬৮ টাকায় ও মাঝারি মানের চাল পাইজাম/ লতা ৩ টাকা বেড়ে ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চালের দাম বাড়তি প্রসঙ্গে দিনাজপুর শিল্প বণিক সমিতির সভাপতি জবেদা অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী সুজাউর রব চৌধুরী গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ধানের দাম দ্রুত বাড়ছে। এক সপ্তাহ আগে          যে ধানের মণ ছিল ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। তা এখন বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০ টাকায়। এছাড়া কৃষকের ধানে ময়েশ্চার থাকে। ময়েশ্চার শুকানোর পর ধানের ওজন কমে যায়। ফলে ধানের দাম আরো বেশি পড়ে। এছাড়া গত কয়েকদিন টানা বৃষ্টির ফলে চাতালে ধান শুকানো যাচ্ছে না। ফলে চালের দাম বেড়েছে।

দাম বেড়েছে মসুর ডালের। মাঝারি মানের মসুর ডালের কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে হঠাত্ করেই পেঁয়াজের বাজার ঊর্ধ্বমুখি। প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ৫ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়া আমদানিকৃত পেঁয়াজে কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়।

পেঁয়াজের পাশাপাশি দাম বেড়েছে রসুনেরও। মাঝে রসুনের দাম কিছুটা কমলেও গতকাল বাজারে প্রতি কেজি দেশি রসুনে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে ১১০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়।

দাম বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির। এক লাফে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়। এছাড়া পাকিস্তানি কক জাতের মুরগি ২৩০ টাকা ও দেশি মুরগির কেজি ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়া প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকায়।

বিভিন্ন নিত্যপণ্যের পাশাপাশি বাজারে সবজির দামও ঊর্ধ্বমুখী। বর্তমানে রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাকরোল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, করল্লা, কচুর লতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁরস, পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। এছাড়া কুমড়া ও লাউ আকারভেদে প্রতিটি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়। এসব সবজি দুই সপ্তাহ আগেও ৪০ টাকার নিচে বিক্রি হয়েছে।

সবজির দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে রাজধানীর তুরাগ এলাকার নতুন বাজারের সবজি বিক্রেতা আরমান বলেন, দেশে বিভিন্ন জায়গায় টানা বৃষ্টিতে অনেক সবজিক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে, বাজারে তুলনামূলক সবজির সরবরাহ কম। তাই দাম বেড়েছে।