রংপুরের বিখ্যাত আম হাড়িভাঙ্গা। অত্যন্ত সুস্বাদু এই আমটি সারাদেশেই জনপ্রিয়। ইতিমধ্যে গাছ থেকে হাড়িভাঙ্গা আম পাড়তে শুরু করেছেন চাষিরা। বাজারেও পাওয়া যাচ্ছে সুমিষ্ট এই আমটি। তবে এবার করোনা মহামারির কারণে ভালোভাবে বাজারজাত করতে না পারলে হাড়িভাঙ্গার দাম পড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চাষিরা।
আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, এবার রংপুর অঞ্চলে হাড়িভাঙ্গার ফলন ভালো হয়েছে। এ মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে সব আম পরিপক্ব হবে। তবে এখন থেকেই বাগান মালিকরা গাছ থেকে হাড়িভাঙ্গা আম পাড়তে শুরু করে দিয়েছেন। এবার রংপুর বিভাগের রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা জেলায় প্রায় সাত হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আমের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে তিন হাজার হেক্টর জমিতেই ফলেছে হাড়িভাঙ্গা আম। এ বছর রংপুরের মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমিতে হাড়িভাঙ্গা আমের ফলন হয়েছে। গত বছর প্রতি হেক্টরে ফলন হয়েছিল ৯ দশমিক ৪ মেট্রিক টন। এবার ফলন ১৫ হাজার মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে করোনার কারণে আম ঠিকমত বাজারজাত করতে না পারার আশঙ্কা করছেন চাষিরা।
ভালোভাবে বাজারজাত করতে পারলে শুধু হাড়িভাঙ্গা আম বিক্রি করেই এবার ২০০ কোটি টাকার ব্যবসা করতে পারবেন এ জেলার আমচাষিরা। মৌসুমের শুরুতে হাড়িভাঙ্গার চাহিদা বেশি থাকায় এর দামও কিছুটা বাড়তি থাকে। খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি হাড়িভাঙ্গা আম ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজার থেকে হাড়িভাঙ্গা কেনা ছাড়াও বড়ো বড়ো বাগান মালিকদের কাছ থেকে সরাসরি এবং অনলাইনের মাধ্যমেও আম ক্রয় করা হচ্ছে।
আমচাষি আব্দুস ছালাম জানান, তিনি ১৪ একর জমিতে হাড়িভাঙ্গা আমের চাষ করেছেন। বিগত বছর এ সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা অধিকাংশ আম চাষিদের বাগান কিনে নিতেন। কিন্তু এবার করোনার কারণে তাকে বেকায়দায় পড়তে হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী আম বাগান কিনতে আসতে পারেননি।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সারোয়ারুল হক জানান, দেশের অন্যান্য স্থানের আম শেষ হয়ে যাওয়ার পর হাড়িভাঙ্গা আম বাজারে আসে এবং ইতিমধ্যেই তা বাজারে আসতে শুরু করেছে।
রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্র্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জানান, ইতিমধ্যে বিখ্যাত এ আমের বাজারজাতকরণে কৃষি বিভাগ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বড়ো বড়ো চাষিদের সঙ্গে পাইকারি ব্যবসায়ীদের অনলাইনের মাধ্যমে যোগাযোগ করানো হচ্ছে। আমচাষিদের তালিকা করা হয়েছে। তবে করোনা পরিস্থিতির ওপর এবার অনেক কিছু নির্ভর করছে।
