প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবকরা

আপডেট : ১৯ জুন ২০২০, ২২:৩৮

রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারে লকডাউনে থাকা সাধারণ মানুষের প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবকরা। তারপরও দিনরাত তারা পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। স্বেচ্ছাসেবীদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী। কারো হয়ত অনলাইনে কেনা আমের পার্সেল এসেছে, আবার কারো স্বজন রান্না করা খাবার টিফিন ক্যারিয়ারে ভরে পাঠিয়েছেন। প্রবেশপথের চেকপোস্টে তা গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাসায় পৌঁছে দিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। এছাড়াও চাহিদা অনুযায়ী বাইরে থেকে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে আসাসহ সব ধরনের আবদার মেটাচ্ছেন তারা। এই আবদারের মধ্যে জরুরি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যেমন আছে, আবার গুরুত্বহীন জিনিসপত্রও আছে।  স্বেচ্ছাসেবকদের           একজন আমিনুল ইসলাম বলেন, জরুরি ও মানবিক সহায়তার জন্য দেওয়া ফোন নম্বরে কল করে নানারকম চাহিদা জানাচ্ছেন মানুষ। এর মধ্যে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে সহায়তার মতো জরুরি যেমন আছে, তেমনি ছোটোখাটো দরকারেও কল করছেন মানুষ। এলাকা অবরুদ্ধ থাকায় বাইরে থেকে আসা পার্সেল স্যানিটাইজ করে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তাদের একটাই চাওয়া, সবাই যেন ঘরে থাকেন।

স্বেচ্ছাসেবকরা জানান, ফলের মৌসুম হওয়ায় এখন অনেকেই অনলাইনে অর্ডার দিয়ে ফল কিনছেন। কারো গ্রামের বাড়ি থেকে কুরিয়ারে ফল পাঠানো হচ্ছে। লকডাউনের কারণে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার কাজে নিয়োজিতরা এলাকায় ঢুকতে পারছেন না। রাজাবাজারের অন্যতম প্রবেশমুখ আইবিএ হোস্টেলসংলগ্ন চেকপোস্টে তাদের থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রাপকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে পার্সেল গ্রহণ করছেন স্বেচ্ছাসেবকরা। এছাড়া চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ-খাবারসহ সবকিছুই পৌঁছে দিচ্ছেন তারা।

স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের একান্ত সচিব মাসুদ হোসেন সুমন বলেন, কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান খান ইরানের নির্দেশনা অনুযায়ী এলাকাবাসীর সব ধরনের চাহিদা মেটানোর জন্য স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করছেন। মোট ১৪৫ জন নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী আছেন। তবে পালা করে প্রতিদিন কাজ করছেন ৮০ জন। শুধু পার্সেল বা জরুরি জিনিসপত্রই নয়, স্বেচ্ছাসেবীরা অসহায় মানুষের কাছে গোপনে মানবিক সহায়তাও পৌঁছে দিচ্ছেন।

গতকাল শুক্রবার ছিল পূর্ব রাজাবাজারে লকডাউনের দশম দিন। প্রতিদিনের মতো গতকালও এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল দেখা গেছে। তবে এর মধ্যেও লোকজনকে শারীরিক দূরত্ব না মেনে ও মাস্ক না পরে কেনাকাটা করতে দেখা গেছে।