চীনের সঙ্গে লাদাখে সীমান্ত নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই গলওয়ান উপত্যকায় এ বার যুদ্ধবিমান নামাতে শুরু করল ভারতীয় সেনারা। দু’দিনের ঝটিকা সফরে গিয়ে লে ও শ্রীনগরের বিমানসেনাদের ঘাঁটি পরিদর্শন করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন বাহিনীরপ্রধান আর কে এস ভাদুরিয়া। তার পরই শুরু হয়েছে বিমানবাহিনীর এই তত্পরতা। অন্য দিকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে বায়ুসেনাকে। যে কোনও রকম পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাদের। পাশাপাশি ফরওয়ার্ড বায়ুসেনা ঘাঁটিগুলিতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে সেগুলোপ্রস্তু করে রাখা হয়েছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লাদাখ দক্ষিণ চনি সাগর নয় যে সেখানে একতরফা ভাবে চীনা সেনারা দাপিয়ে বেড়াবে। প্রয়োজনে যোগ্য জবাব দেয়া হবে এবার। ভারত তার অবস্থান বদল করবে না।
আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, শুক্রবার সকাল থেকেই নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর আকাশে উড়তে দেখা গিয়েছে একাধিক সামরিক হেলিকপ্টার। এগুলোর মধ্যে ছিল চিনুক কার্গো হেলিকপ্টার, অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার, পি-৮ সার্ভেইলেন্স এয়ারক্র্যাফ্ট এবং আইএল-৭৬ স্ট্র্যাটেজিক এয়ারলিফ্টার। এই হেলিকপ্টারগুলির মাধ্যমে বিপুল সেনা ও রসদ মজুত করা হচ্ছে সেনাবাহিনীর সূত্র জানিয়েছে। সেই প্রস্তুতির সঙ্গে এযুদ্ধবিমানও তৈরি রাখল সেনা বাহিনী, যাতে প্রতিপক্ষের দিক থেকে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে তার মোকাবিলা করা যায়।
১০ সেনা মুক্ত : এদিকে, সামরিক-কূটনৈতিক পর্যায়ে দীর্ঘ আলোচনার পর ১০ ভারতীয় সেনাকে অবশেষে মুক্তি দিয়েছে চীন। গত সোমবার রাতে গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষের সময় তাদের আটক করেছিল চীনা বাহিনী। গতকাল ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কমপক্ষে দু’জন অফিসারসহ ১০ সেনা বৃহস্পতিবার রাতে ভারতের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) পার হয়ে নিজ দেশে ফিরেছেন। তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন প্রশ্ন করেছেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
মোদীর সর্বদলীয় বৈঠকে ঐক্যের ডাক :এনডিটিভ জানায়, রাজনৈতিক বিভেদ সত্ত্তেও চীনের সঙ্গে উত্তেজনার ইস্যুতে ঐক্যের সুর নিয়ে গতকাল শেষ হল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ডাকা সর্বদলীয় বৈঠক। বৈঠকের শুরুতেই সরকারকে একগুচ্ছ প্রশ্নের মুখে দাঁড় করালেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। তিনি বলেন,চীন যে এত বড় সৈন্য সমাবেশ করছে, সরকার কি সে খবর পায়নি? উপগ্রহ চিত্রে কি নজর রাখা হয়নি? আগামীতে পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত বিরোধীদের অবহিত করার অনুরোধও প্রধানমন্ত্রীকে জানান তিনি। অপরদিকে তার পাশাপাশি চীনকে যোগ্য জবাব দেওয়ার প্রশ্নে সরকারকে পূর্ণ সমর্থন দেয়ার বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন ও পশ্চিমবঙ্গ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি বলেন, একনায়কতান্ত্রিক চীনের বিরুদ্ধে লড়তে গেলে আমাদের সবাইকে এক হতে হবে। বামেরা অবশ্য আমেরিকার জোটে যোগ না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। গতকাল ২০টি দলের প্রতিনিধির সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেন মোদী। সঙ্গে ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও।
সর্বদলীয় বৈঠকে মোদী আরো বলেন, ভারতের সীমানায় ঢুকে চীনা সেনারা কোনো ছাউনি বা পোস্ট দখল করেনি। এক ইঞ্চি জমিও কব্জা করতে পারেনি। বরং ভারতের জওয়ানেরা আগ্রাসী চীনাদের উপযুক্ত শিক্ষা দিয়েছে। চীন যা করেছে, তাতে সারা দেশ আহত, ক্ষুব্ধ। ভারতীয় সেনারা জল, স্থল ও আকাশ সব দিক রক্ষা করতে প্রস্তুত। চীনকে কূটনৈতিক স্তরে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভারত শান্তি চায়। কিন্তু সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো পদক্ষেপই নিতে দ্বিধা করবে না। দেশ আমাদের কাছে সবার আগে। কোনো চাপের কাছে ভারত মাথা নোয়াবে না। যা প্রয়োজন, সব করবে। সেনাদের সব ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই সর্বদলীয় বৈঠক প্রমাণ করে দিয়েছে, গোটা দেশ এই সংকটে একতাবদ্ধ। এই একতা গোটা পৃথিবীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেবে।
এর আগে রাহুল গান্ধী এক টুইট করে অভিযোগ করেন, সরকার যদি অত সকালে ঘুমিয়ে না পড়ত তবে সোমবার সন্ধ্যারাতে চীনা সেনাদের হাতে অতগুলো ভারতীয় সেনার মৃত্যু হতো না। এর জবাবে মোদী বলেছেন, অভিযোগ না করে আসুন সবাই ঐক্যবদ্ধ হই।
