আজ ২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবস। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী, শরণার্থীদের অধিকার রক্ষায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর প্রতি বছর দিবসটি পালন করে থাকে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও দিবসটি পালন করছে।
দিবসটি সামনে রেখে গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের প্রকাশ করা এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশে সংঘাত, যুদ্ধ, সহিংসতা, নির্যাতন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে গত বছর শেষে প্রায় ৮ কোটি মানুষ জোরপূর্বক বাস্তচ্যুত হয়েছেন। এর মধ্যে ২০১৯ সালেই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ।
ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী ৭ কোটি ৯৫ লাখ বাস্তুচ্যুতের ২ কোটি ৬০ লাখ শরণার্থী, ৪২ লাখ আশ্রয়প্রার্থী এবং ৪৬ লাখ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত। সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা, আফগানিস্তান, দক্ষিণ সুদান এবং মিয়ানমার থেকেই দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে দেশটি থেকে বাস্তচ্যুত প্রায় ৪০ লাখ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে তুরস্কে। বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। যারা মিয়ানমারে পরিকল্পিত নিধন ও গণহত্যার শিকার। মিয়ানমার বিভিন্ন সময় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করেনি। এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও রাখাইনে ফিরে যায়নি। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
জাতিসংঘের ঐ প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের দুর্দশা বহুগুণে বাড়িয়েছে নতুন করোনা ভাইরাস মহামারি। এ কারণে বাস্তুচ্যুত প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় খাবার পাচ্ছে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং বাস্তুচ্যুত মানুষদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ ও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর।
