পুরনো বাতি বদলে রাজধানীর সড়কে এলইডি লাইট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন। প্রাথমিকভাবে সীমিত আকারে সংস্থাটির আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে এ বাতি স্থাপন করা হবে। তবে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সব সড়কে এলইডি লাইট জ্বলতে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন বেশিরভাগ সড়কে এবং উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উত্তরা এবং শেরেবাংলা নগর এলাকায় বাণিজ্যমেলার সামনের সড়কে এলইডি বাতি স্থাপন করা হয়েছে। এলইডি লাইট স্থাপন করার পর ওইসব এলাকার রাতের চিত্র পাল্টে গেছে। কমে গেছে চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধ। আলোর ঝলকানিতে ফুটে উঠেছে সড়কগুলো। নির্বিঘ্নে রাতে ফুটপাত দিয়ে মানুষ চলাচল করছে। আগে সড়কে যখন পুরনো নিয়নবাতি ছিল, তখন অনেক সময় বাতির নিচেই অন্ধকার হয়ে থাকতো। সেই সুযোগ নিয়ে চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপকর্ম করত দুর্বৃত্তরা।
দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মতো উত্তর সিটি কর্পোরেশন তার আওতাধীন ১, ৩ ও ৫ নং অঞ্চলের সড়কে পুরনো নিয়নবাতি বদলে দিয়ে এলইডি বাতি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব সড়কে জার্মানির ভালকান কোম্পানির নরডন গ্রুপের অত্যাধুনিক এলইডি লাইট বসছে। ৩ হাজার ৩৪৩টি বাল্ব স্থাপন করা হবে। যার প্রতিটি এলইডি বাতির খরচ পড়বে ৪৭ হাজার টাকা। প্রতিটি বাতি ১০ বছরের ওয়ারেন্টি নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনো বাতির আলো ৭০ শতাংশ নেমে এলে সেটা পরিবর্তন করার কথা থাকছে চুক্তিতে। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ হচ্ছে ২৫ কোটি টাকা।
ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে সার্ক ফোয়ারা থেকে শুরু হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দিয়ে জাহাঙ্গীর গেট হয়ে মহাখালী, সেখান থেকে স্টাফ কোয়ার্টার। অন্যদিকে প্রগতি সরণির আবুল হোটেল থেকে শুরু হয়ে যমুনা ফিউচার পার্ক পর্যন্ত এলইডি বাতি স্থাপন করা হবে। এদিকে বিজয় সরণি ঘুরে খেজুরবাগান হয়ে সংসদের দক্ষিণে মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় এবং নতুন বাজার থেকে শুরু করে কাকলী পর্যন্ত রাস্তা এবং পাকিস্তান দূতাবাস থেকে শুরু করে সুইমিংপুল পর্যন্ত সড়কে বসবে এলইডি বাতি। পুরো শহরের এলইডি বাতি ডিএনসিসি কন্ট্রোল রুম থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ডিএনসিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (বিদ্যুত্) রফিকুল ইসলাম জানান, অল্পসময়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কের চিত্র পাল্টে যাবে। সড়কে রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে সংগঠিত অপকর্মও কমে যাবে।
