বগুড়ায় করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) সংক্রমিত হয়ে আরও এক পল্লিচিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। বেসরকারি টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোরে তিনি মারা যান। এ নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত বগুড়ার সরকারি-বেসরকারি তিন হাসপাতালে কোভিড পজিটিভ চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার ভোরে টিএমএসএস হাসপাতালে মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম নূরুল মোমিন (৬৫)। তিনি পেশায় পল্লি চিকিৎসক। বাড়ি বগুড়া শহরের ফুলবাড়ি এলাকায়।
টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহিম (এইও) বলেন, নূরুল মোমিন প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন উপসর্গে ভুগছিলেন। করোনা পরীক্ষার জন্য ১৫ জুন তিনি এই হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে নমুনা জমা দেন। নমুনা পরীক্ষায় ১৬ জুন তিনি কোভিড পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হন। দুদিন বাসাতেই আইসোলেশনে থাকার পর অবস্থার অবনতি ঘটে। এ অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার ভোর পাঁচটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
বগুড়ার বেসরকারি টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) ‘পজিটিভ’ একজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বেলা রাত পৌনে আটটার দিকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পেশায় ব্যবসায়ী ওই ব্যক্তির নাম আল ইমরান সরকার (৪৩) । তিনি দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ওসমানপুর হিওড়া এলাকার বাসিন্দা। আল ইমরান সরকারের স্ত্রী শাকিলা পারভীন দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছিলেন। তিনি বর্তমানে গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত।
শাকিলা পারভীন বলেন, তার স্বামী ব্যবসার কাজে নানা স্থানে যাতায়াত করতেন তিনি। বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেওয়ায় তিনি বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নমুনা দেন। ১৩ জুন নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হন। এরপর বাসাতেই আইসোলেশনে ছিলেন তিনি। শুক্রবার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তাঁকে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বগুড়ায় কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) পজিটিভ শনাক্ত আরও এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে কোভিড ডেডিকেটেড মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোস্তাফিজার রহমান মারা যান। বগুড়া শহরের এই বাসিন্দার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর।
মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) খায়রুল বাশার মোমিন বলেন, মারা যাওয়া এই ব্যক্তি জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও কাশি নিয়ে ১৭ জুন মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে আসেন। এখানে আসার আগেই তিনি করোনা পরীক্ষার জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নমুনা দেন। নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদনে কোভিড পজিটিভ আসে। এর মধ্যে তাঁর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। কাশির সঙ্গে রক্তক্ষরণও শুরু হয়। শুক্রবার বেলা ৩টা ২০ মিনিটে আইসোলেশনে তার মৃত্যু হয়।
ইত্তেফাক/এমআরএম
