একগুচ্ছ কবিতা

আপডেট : ২০ জুন ২০২০, ১৮:৩৫

সমস্ত গলার স্বর—পুরাতন গোলাকার

 

আর মনে পড়ানেই—সীমানার শেষ ভেঙে ভেঙে

আর কোনো মনে পড়ানেই। জিভহীন দেহ শুধু

অনাহত শূন্যতার দিকে কাতরতা ধরে আছে—

যেন কোনো আয়ুরেখা নুয়ে আছে।


এভাবে লোকেরা বেঁকে যায়। তলোয়ারের অভ্যাসে

কখনো সহসা গেঁথে যায়—অনিচ্ছুক কোলাহলে

ফিরে যায় আগের নেকাবে—স্পষ্ট ভয়ের ভেতর—

সারা দিন ভিড় যেন আহ্নিকের!


তবু সমস্ত গলার স্বর— পুরাতন গোলাকার

সব হাতে হেমন্তের দিন যেন ঘন হয়ে আছে

নরম মানুষ যেন মাছখোর কোনো একপাখি—

বারবার অপচয় ভুলে গেছে।

 

 

শরীরে পিছলে যায় তারাদের রাত্রি

 

 

কখনো তারার নিচে শীত চলে এলে

জানালার শার্সিগুলো হিম হয়ে যায়।

জাহাজ ডুবির মতো টুপ করে যেন

হিম মখমল গায়ে সন্ধ্যা নেমে আসে।

আলো আর উড়ালের মাঝখানে জমে

উদ্ভিদের মাংস কিংবা অলস হাওয়া।


ছায়ার মোচড় খুলে তারাদের নিচে

যখন পিছলে যাই: রাত্রি ধরে আসে।

নীল আঙুরের মতো নক্ষত্র তখন

অন্য কোনো রোদ হয়ে আলো বদলায়।

সাদা সাদা পাখিদের বাসনাসমূহে

সমুদ্রের মতো শান্তি ফিরে আসে ফের।


বাসনারা যেন কিছু উড়ে আসা পাতা—

রাত্রির ভেতর হিম, সযত্ন চমক।

 

 

আত্মার ত্বকের নিচে ডহর কেবল

 

 

কোনো এক সাদা মেঘে গভীর ডহর

মুকুরিত জলে কাঁপে যেন অবিরাম।

পরিচিত সাদা দিনে কখনো নিশ্চুপ

মধ্য দিনে সন্ধ্যা নামে কখনো আবার।


কুহক রেলিঙে তবু যেন পাক খাই—

কেবল স্মৃতিরা দূরে, আরামে ঘুমিয়ে

চমক প্রস্তুত করে। গোলকধাঁধাঁরা

কণ্ঠস্বরে ছেটে ফ্যালে পেরুবার পথ।


আত্মার ত্বকের ঘন নিচে আহত গহিন এক

ডহর কেবল ভরাস্বরে পাখিদের ‘পরে ভাসে।

 

 

যখন তোমাকে ভাবি সন্ধ্যা নামে ধীরে

 


পৃথিবীর সবখানে বসন্তের বিকেল মানেই

কিছু তারা বিকশিত— স্ফটিকের মতো বুদ আলো,

সন্ধ্যা নামার আগেই খামার শ্রমিকদের চোখে

দৃশ্যমান যাতায়াত— অবিরাম বাতাসে কোমল।


এরপর জোছনায় নিঃশ্বাসের মতো নড়ে শুধু

প্রকাণ্ড দিগন্ত আর নরম ত্বকের নিচে থাকা

লাল-সুগন্ধি হৃদয়। অথচ তোমাকে অবিরাম

ভাবলেই প্রতিবার এখানে বসন্ত আসে ধীরে।