দেশের রুই জাতীয় মাছের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র ও মৎস্য অভয়ারণ্য হালদা নদীতে দ্বিতীয় দফায় ডিম ছেড়েছে মা মাছ। শুক্রবার (১৯ জুন) বিকাল হতে পরের দিন ভোর তিনটা পর্যন্ত হালদা নদীর আজিমের ঘাট, নাপিতের ঘাট, রামদা মুন্সির হাট, বাড়িঘোনার কুম গুলো হতে ডিম সংগ্রহ করেন মৎস্যজীবিরা। হালদার বুকে প্রায় শতাধিক নৌকা ভাসিয়ে দুই শতাধিক ডিম সংগ্রহকারী ডিম সংগ্রহ করেছেন। তবে ডিম সংগ্রহের পরিমাণ ছিল কম।
চলতি মৌসুমে গত ২২ মে প্রথম দফায় ডিম ছেড়ে ছিল মা মাছ। এই দিন ডিম সংগ্রহকারীরা রেকর্ড সংখ্যাক পঁচিশ হাজার পাঁচশ ছত্রিশ কেজি ডিম সংগ্রহ করেছিলেন। ঠিক একমাসের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় ডিম ছাড়ে মা মাছ।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা গবেষক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়ার প্রদত্ত তথ্য মতে, সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২১ এপ্রিল প্রথম দফায় ডিম ছাড়ার পর ১২ জুন দ্বিতীয় দফায় ডিম ছেড়েছিল মা মাছ। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর ১৯ জুন মা মাছগুলো হালদায় দ্বিতীয় দফায় ডিম ছাড়লো। এই ঘটনাকে তিনি আশাব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করে দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, এটা হালদা নদী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটা নতুন দিকনির্দেশনা দেয়। এর মাধ্যমে হালদা নদীর পরিবেশের যে উন্নয়ন হয়েছে এবং মা মাছের পরিমাণ বেড়েছে সেটা প্রমাণ করে।
তার দেওয়া মতে, গত ১৯ জুন বিকালের দিকে প্রায় ২৫টি নৌকা ডিম সংগ্রহ করতে নামলেও সন্ধ্যা গড়াতে এর সংখ্যা শতাধিক হয়। মোট সংগৃহীত ডিমের পরিমাণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এখনও হিসাব করিনি তবে সংগৃহীত ডিমের পরিমাণ আনুমানিক দেড়শ হতে দুইশ কেজি হবে।
আরও পড়ুন: চলনবিলে মা ও পোনা মাছ নিধন রোধে উদ্যোগ নেই, দেদারে শিকার
আজিমের ঘাট এলাকায় ডিম সংগ্রহকারী রোসাঙ্গীর আলম বলেন, শুক্রবার বিকাল ৫টা হতে ডিমের নমুনা পাওয়া গেলে আমি দুইটি নৌকা নিয়ে শনিবার ভোর তিনটা পর্যন্ত অল্প অল্প করে ডিম সংগ্রহ করি। আমার মোট সংগ্রহের পরিমান আধা বালতি। তবে অনেকেই ২-৩ বালতি ডিম সংগ্রহ করতে পেড়েছে।
রাউজান সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা পীযূষ প্রভাকর বলেন, দ্বিতীয় দফায় অল্প পরিমান ডিম ছেড়েছে মা মাছ। প্রায় একশটি নৌকা ডিম সংগ্রহে নেমেছিল এদের মধ্যে কিছু নৌকা ২-৩ কেজি পর্যন্ত সংগ্রহ করতে পেরেছে, কিছু নৌকা ডিম সংগ্রহ করতে পারেনি।
দ্বিতীয় দফায় মা মাছ ডিম ছাড়ায় খুশি ডিম সংগ্রহকারীরা। তার এটাকে হালদা পরিবেশের একটি ইতিবাচক দিক বলে মনে করেন। তারা জানান, হালদা রক্ষায় রাউজান উপজেলা প্রশাসন ও হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেছেন। আইডিএফসহ স্বেচ্ছাসেবীরা হালদা রক্ষায় নানান রকম প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। যার ফলে হালদার মা মাছের ডিম ছাড়ার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
ইত্তেফাক/এসি
