পাহাড়ি ঢলে বাঁধে ভাঙন

সড়ক ও বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি

আপডেট : ২০ জুন ২০২০, ২১:৩৪

কক্সবাজার প্রতিনিধি

গত বুধবারের ভারী বর্ষণে কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁওয়ের ফুলেশ্বরী নদীতে নামা পাহাড়ি ঢলের তীব্রতায় ভেঙে গেছে ‘মনজুর মৌলভীর দোকান’ এলাকার বাঁধটি। এতে ১০টি পাকা-সেমিপাকা দোকান, ২০-২৫টি বাড়ি, প্রায় এক কিলোমিটার পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে পুকুরে সমন্বিত চাষের মাছ। ক্ষতিগ্রস্ত আতিকুর রহমান মানিক জানান, সংস্কার না হওয়ায় বাঁধটি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে গত বছর দুয়েক আগে তা নাজুক পর্যায়ে পৌঁছে। গত অর্থবছরে তা মেরামতে বরাদ্দ আসলে আমরা আশ্বস্ত হই। কিন্তু বাঁধটি ভেঙে গেলে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছি। তিনি আরো বলেন, আমার পুকুরে সমন্বিত চাষের প্রায় ৩ লাখ টাকার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাড়ির আসবাবপত্র, তৈজসপত্র, ইলেকট্রনিকস পণ্য, বাগানের গাছ, গৃহপালিত প্রাণী। পানির স্রোতে পড়া প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই একই ধরনের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে পাকা সড়কটিও।

এতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে ১০-১২ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ।  স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এলজিএসপি প্রকল্পের জেলা সমন্বয়ক বরুণ বড়ুুুয়া জানান, জালালাবাদ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মনজুর মৌলভীর দোকানের সামনের বেড়িবাঁধ সংস্কারে এলজিএসপির ফান্ড থেকে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা জানি। কিন্তু এতদিনেও কেন বাঁধটি সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি তা জানা নেই। তবে এতটুকু বলতে পারি এখনো টাকাটি খরচের অনুমোদন নেয়নি পরিষদ কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ইমরুল হাসান রাশেদের মুঠোফোনে কয়েক বার কল করা হয়। রিং হলেও ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি। জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) প্যানেল চেয়ারম্যান ওসমান সরোয়ার ডিপো বলেন, আমার এলাকার এ বাঁধটি সংস্কারে টাকা এসেছে শুনেছিলাম। কেন এটা সংস্কার করা হয়নি তা আমাদের অজানা। এ মুহূর্তে ২০-২৫টি বসতবাড়ি, ১০টি দোকান, পাকা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিপুল পরিমাণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। আবার বৃষ্টি বাড়লে যদি ঢল আসে ভাঙন এলাকার বাসাবাড়িগুলো আবারও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।