আজ বিশ্ব বাবা দিবস
আসিফুর রহমান সাগর
‘পৃথিবীতে কীভাবে বাঁচতে হয় বাবা তা বলেন না, তিনি সারাজীবন পরিবার, সন্তান নিয়ে, তাদের জন্য বেঁচে থাকেন। আর সন্তানদের দেখার সুযোগ করে দেন—কীভাবে বাঁচতে হয়’। (প্রবাদ)
পৃথিবীতে চোখ মেলে মাকে আঁকড়ে ধরেই বেড়ে ওঠে একটি শিশু। মায়ের স্নেহছায়ায় বড়ো হয় সন্তান। বাবা যেন দূরবর্তী দ্বীপের মতো। এ অঞ্চলের প্রচলিত আর্থসামাজিক ব্যবস্থায় পুরো সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তিনি ব্যস্ত থাকেন পরিবারের ঘেরাটোপের বাইরে। তার সান্নিধ্য খুব কমই পায় সন্তানরা। বাবার অস্তিত্ব সন্তানের উপলব্ধিতে আসে ধীরে ধীরে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে। তখন বোঝা যায়, বাবার কাঁধে ভর করেই বেড়ে উঠছে সন্তানরা।
বাবাকে নিয়ে বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ বলেছেন, ‘নিজের অস্তিত্বে বাবার অবয়ব ফুটে উঠতে থাকে বলেই মানুষ ক্রমশ বড়ো হতে থাকে’। বাবা অনুচ্চারিত প্রতিজ্ঞায় সন্তানদের বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দেন। বাবাকে ভালোবাসা জানাতে, তার প্রতি সম্মান জানাতে, সংসারের জন্য তার জীবন উত্সর্গ করার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব জুড়ে পালিত হয়ে আসছে বাবা দিবস। আজ বিশ্ব বাবা দিবস।
সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও কয়েক বছর ধরে বাবা দিবস পালন শুরু হয়েছে। সন্তানরা শ্রদ্ধার সঙ্গে বাবাকে সম্মান জানান বিভিন্ন উপহার দিয়ে। ভালোবাসার উষ্ণ আবেগে ভাসিয়ে তাকে বলে, ‘বাবা, আমরা তোমার সন্তানরা তোমাকে ভালোবাসি।’ তবে এবছর করোনাকালে তা হয়তো ফেসবুকের নিউজ ফিড আর ঘরের চার দেয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে, তাতে বাবার প্রতি ভালোবাসায় কমতি হবে না!
বাবা দিবসের শুরু হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। তবে ঠিক কবে থেকে এ দিবসটির প্রচলন হলো তা নিয়ে দ্বিধা আছে। কেউ কেউ বলেন, ১৯০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় চার্চের মাধ্যমে দিনটির প্রচলন। অন্যরা বলেন, ওয়াশিংটনের ভ্যাঙ্কুবারে প্রথম বাবা দিবস পালন করা হয়। তবে সাধারণ মত বাবা দিবসের প্রবক্তা সোনার স্মার্ট ডোড। ১৮৮২ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্ম নেন।
