টিভি রিমোটের চেয়েও ছোট্ট যে নবজাতক

আপডেট : ২০ জুন ২০২০, ২২:৩৩

ব্রিটেনে মাত্র ২৩ সপ্তাহে জন্মগ্রহণ করেছে অলিভার ক্যাশ লোউথার-রায়ান নামের এক শিশু। এক পাউন্ডের কিছু বেশি ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করা অলিভার লম্বায় মাত্র সাত ইঞ্চি যা কিনা একটি টিভি রিমোর্টের চেয়ে ছোটো। জন্মের পর চিকিত্সকরা শিশুটির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মাত্র তিন ভাগ বলে জানিয়েছিলেন। তবে সবাইকে অবাক করে জীবনের সঙ্গে লড়াই করে এখনো বেঁচে আছে শিশুটি! এখন তার বয়স তিন মাস।

মার্চে ব্রিটেনে লকডাউন শুরুর তিন দিনের মাথায় জন্ম নেয় শিশুটি। গত তিন মাসে জীবনের সঙ্গে অন্যরকম লড়াই চলেছে অলিভারের। জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই তিন তিনটি হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে হয়েছে শিশুটিকে। টিকে থাকার লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত ছিদ্রযুক্ত দুটি অন্ত্রের অপারেশন, ১১ বার রক্ত পরিবর্তন, দুইবার ফুসফুসে রক্তক্ষরণ, একবার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, তিনবার ফুসফুসে গণ্ডগোল এবং হূদ্যন্ত্রে সমস্যায় চিকিত্সকদের শরণাপন্ন হতে হয়েছে।  লন্ডনের একটি হাসপাতালে এখনো আইসিউতে রয়েছে অলিভার। অলিভারকে তিনটি ভিন্ন ধরনের ভেন্টিলেটরে রাখা হতো। ওষুধ দেওয়ার জন্য ছিল সিরিঞ্জ ড্রাইভার। এক সময় তার            দুই হাতে দুটি আর কপালে একটা ক্যানোলা থাকত। পুরো শরীরে কোনো জায়গাই ফাঁকা থাকত না।

তার চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত অনেক কঠিন সময় পার করেছে অলিভার। তাকে আমরা রকিও বলি। কারণ সে কখনো ভেঙে পড়েনি। হাসপাতালে সন্তানের সঙ্গে দেখা করার জন্য একজনই অনুমতি পান। কোনো সপ্তাহে অলিভারের মা, আবার কোনো সপ্তাহে বাবা দেখা করার সুযোগ পান।

এত ঝক্কি-ঝামেলা সামলে অবশেষে ওলিভারের শঙ্কামুক্ত হওয়ার খবরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন তার বাবা-মা। নিজের ছেলেকে কোলে নিতে তা মা ফ্রান্সেসকে (২৪) ৯ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। সন্তানকে কোলে নেওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ফ্রান্সেস বলেন, সন্তানের জন্মের দুই মাস পার হয়ে গেলেও আমি তাকে কোলে নিতে পারছিলাম না; মা হিসেবে এর চেয়ে বড়ো কষ্টের কিছু হতে পারে না। আদৌ তাকে কোলে নিতে পারব কি পারব না—তা নিয়েও ছিল অনেক শঙ্কা। অবশেষে সেই দিন এলো; আমি আমার সন্তানকে কোলে তুলে নিলাম। এটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। অনেক দেরিতে হলেও তাকে এভাবে ছুঁয়ে দেখতে পারা, জড়িয়ে ধরতে পারার অনুভূতি সত্যিই অসাধারণ।—মিরর