কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বাংলাদেশের সফলতম ওয়ানডে অধিনায়ক ও নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজা। দুদিন ধরেই জ্বর মাশরাফির। সঙ্গে গা ব্যথা ও মাথাব্যথাও আছে বেশ। শুক্রবার করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা করানো হয়। ফলাফল পজিটিভ এসেছে শনিবার।
করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামনে থেকেই লড়ছিলেন মাশরাফি। ক্রিকেটার সত্তার বাইরে নিজের জনপ্রতিনিধি পরিচয়ে নড়াইলকে করোনামুক্ত করার লড়াইয়ে নেমেছিলেন সাবেক অধিনায়ক। কিন্তু গতকাল একটি খবর চমকে দিয়েছে সবাইকে। করোনা আক্রান্ত হয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। তিনি জানান, আপাতত বাসায় থেকেই রোগের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাবেন তিনি। জ্বর ও গা ব্যথা ছাড়া আপাতত কোনো সমস্যা নেই। উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর থেকেই নিজেকে আলাদা করে রেখেছিলাম। এখনো বাসায়ই থাকছি। গুরুতর কিছু নেই, ঠিক আছি। অনেক ইনজুরি হলো জীবনে, ডেঙ্গু হলো, এবার কোভিড। এসব ধাক্কা আমার সয়ে গেছে এখন। মনোবল চাঙা আছে। সবাই দোয়া করবেন।
মাশরাফির শাশুড়ি, শ্যালিকা ও শ্যালিকার মেয়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন আগেই। ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিত্সা নিচ্ছেন তারা। ঢাকার হাসপাতালে আসার আগে তারা ছিলেন নড়াইলে। তাদের সংস্পর্শে আসেননি মাশরাফি। আক্রান্ত হয়েছেন অন্য কোনোভাবে। করোনা ভাইরাসের প্রকোপ শুরুর পর থেকে মানুষের সহায়তায় ঝাঁপিয়ে পড়েছেন মাশরাফি। নড়াইলের স্বাস্থ্য ও চিকিত্সা ব্যবস্থা নিয়ে অনেক উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি অসহায় মানুষদের সহায়তায় ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যাপকভাবে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেক সহায়তা করার পাশাপাশি প্রায় দেড় যুগের সঙ্গী ব্রেসলেট নিলামে তুলে সেখান থেকে পাওয়া ৪২ লাখ টাকা থেকে সহায়তা করে যাচ্ছিলেন। শুধু নড়াইলে নয়, মাশরাফির সহায়তা পেয়েছেন ঢাকাসহ দেশজুড়ে আরো অনেকে। এলাকার মানুষের সহায়তার জন্য দুই দফায় নড়াইল গিয়েছিলেন মাশরাফি। তবে সেটিও বেশ আগে। নড়াইল থেকে ঢাকায় ফিরে আলাদা একটি বাসায় কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন দুই সপ্তাহ। পরে বাসায় ফিরে সাবধানেই ছিলেন। বাইরে খুব একটা যাননি। তার পরও রক্ষা পেলেন না আক্রান্ত হওয়া থেকে। তার স্ত্রী-সন্তানদের কোনো উপসর্গ এখনো পর্যন্ত নেই। মাশরাফিসহ এখন পর্যন্ত ১৪ জন এমপি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।
