‘সমাজতন্ত্র ও রাজনৈতিক শুদ্ধতা’ থেকে মুক্তি পেল বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাজিলের নতুন ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো (৬৩)। নতুন বছরের প্রথম দিন মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। ভাষণে লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় দেশটির দুর্নীতি, অপরাধ ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণেরও তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ভাষণের আগে ব্রাজিল কংগ্রেসের এক যৌথ অধিবেশনে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ভাষণে তিনি বলেন, সমাজতন্ত্র, রাজনৈতিক শুদ্ধাচার থেকে ব্রাজিলের মুক্তি এখন থেকে শুরু হলো। এ সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। গত ২৮ অক্টোবরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থি ওয়ার্কার্স পার্টির ফার্নান্দো হাদ্দাদকে হারিয়ে জয়ী হয়েছিলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা থেকে রাজনীতিতে আসা বোলসোনারো। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে সাবেক এ আর্মি ক্যাপ্টেন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ চেম্বার অব ডেপুটিস হিসেবে সাতবার দায়িত্ব পালন করেছেন।
উন্নয়নশীল মিত্রদেশগুলোর বলয় থেকে বেরিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে উন্নত পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে মিত্রতা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বোলসোনারোর। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি তার বিশেষ অনুরাগের কারণে তাকে ব্রাজিলের ‘ট্রাম্প’ হিসেবেও অভিহিত করেছে অনেক গণমাধ্যম। ওদিকে ব্রাজিলের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের প্রতি সমর্থনের স্মারক হিসেবে অভিষেক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে পাঠিয়েছেন ট্রাম্প।
এর ফলে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে পালাবদলের অংশ হিসেবে তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে ইসরাইলে ব্রাজিলের দূতাবাস স্থানান্তর করার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণত ফিলিস্তিন ইস্যুতে দুই দেশ নীতিতে এত দিন সমর্থন ছিল ব্রাজিলের। রক্ষণশীলদের ব্যাপক সমর্থন পাওয়া বোলসোনারো গর্ভপাত নিষিদ্ধের আইন পাস করতে পারেন এবং স্কুল শিক্ষা কার্যক্রম থেকে যৌন শিক্ষার মতো বেশ কিছু বিষয় বাদ দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
