অনলাইন প্লাটফর্ম ও ইউটিউবের নাটকের অবস্থা...

আপডেট : ২১ জুন ২০২০, ২০:০২

বিনোদন রিপোর্ট

 

বর্তমানে নাটকের অবস্থা নিয়ে গত কয়েকবছরে ইতিবাচক অবস্থার চেয়ে নেতিবাচক দিকেই ঝুঁকেছে। বাজেট নিয়ে একটি সমস্যার কথা সবসময় শোনা গেলেও বেশি বাজেটের কাজগুলো নিয়েও রয়েছে সমালোচনা। বিশেষ করে নাটকের সঙ্গে বিজ্ঞাপন এজেন্সিগুলো যুক্ত হওয়ার পর এখন নির্মাতা বা চ্যানেল নয়, এজেন্সি ঠিক করে দিচ্ছে অভিনয়শিল্পী ও গল্প। আর চ্যানেলগুলোয় যেহেতু এখন নাটক প্রিভিউ চর্চা থেকে অনেকটাই বের হয়ে এসেছে তাই চ্যানেলের নাটক নিয়েও রয়েছে অনেক সমালোচনা। পরবর্তী অনলাইন প্লাটফর্ম যেমন আশীর্বাদ হিসেবে এসেছে তেমনি নাটকের জায়গাটা আরও সহজলভ্য করে ফেলেছে। এতে অবাধ স্বাধীনতায় লাগাম ছাড়া কাজ হচ্ছে অনলাইন প্লাটফর্মগুলোতে। সম্প্রতি ওয়েব প্লাটফর্ম ও ইউটিবে কন্টেন্ট নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন মামুনুর রশীদ, আবুল হায়াত, দিলারা জামান, সৈয়দ হাসান ইমাম, এটিএম শামসুজ্জামান, ফেরদৌসি মজুমদারসহ অনেকে। বিবৃতিতে তারা জানিয়েছেন, প্রযুক্তির উত্তরোত্তর আধুনিকতার ফলে টেলিভিশন চ্যানেল ছাড়াই অন্যান্য মাধ্যমে, যেমন ইউটিউব, ওটিটি প্লাটফর্মকে নিয়ন্ত্রণ বা বর্জন করার পক্ষপাতি নন তারা।

‘বিভিন্ন ওয়েব প্লাটফর্ম ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রদর্শিত নাটক সম্পর্কে দেশের বিশিষ্টজনদের অভিমত’ শিরোনামের বিবৃতি তুলে ধরা হলো—

অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে অনেকদিন যাবত্ কিছু ইউটিউব এবং ওয়েব প্লাটফর্মে অত্যন্ত দায়িত্বহীনতার সঙ্গে কিছু নির্মাতা প্রযোজক, নাট্যকার এবং অভিনয়শিল্পী কুরুচিপূর্ণ নাটক পরিবেশন করে আসছে। এই নাটকগুলোর মধ্যে কাহিনির প্রয়োজনে নয়, একেবারেই বিকৃত রুচিসম্পন্ন নাটক নির্মাণ করে বিবেকবান ও সচেতন দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। আমরা এহেন কাজকে তীব্রভাবে ভর্ত্সনা করি, নিন্দা জানাই।

বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটক জন্মলগ্ন থেকেই পারিবারিক বিনোদন মাধ্যম হওয়ায় দর্শকের রুচি ও মূল্যবোধ নির্মাণে ভূমিকা পালন করে আসছে। বাংলাদেশের বেসরকারি টেলিভিশন আসার পর কিছু প্রতিভাবান নাট্যকার, পরিচালক, অভিনেতা অভিনেত্রী ও কলাকুশলী বাংলাদেশের এই মাধ্যমকে এক নতুন মহিমায় স্থাপন করেছিল। কিন্তু কিছু কিছু চ্যানেলে নাটকের মান এমনভাবে নেমে এসেছে যে বাংলাদেশের নাটক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে অনেক দর্শক। এর মধ্যেও কিছু ব্যতিক্রমী চ্যানেলে পরিচালকরা কিছু ভালো কাজ করার তাগিদও অনুভব করেছেন। যার প্রতিফলন আমরা প্রায়শই চ্যানেলগুলোতে দেখতে পাই। কিন্ত এর মধ্যে আবার অনলাইন প্রচার মাধ্যমগুলোতে অবাধ প্রচারের সুযোগে যৌনতা এবং ভায়োলেন্সকে উপজীব্য করে অশ্লীলতাকে আশ্রয় করেছে। সম্প্রতি সেই সব নাটক ওয়েবসাইট ও ইউটিউবে প্রদর্শিত হয়ে বাঙালির চিরন্তন সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে আঘাত হানতে শুরু করেছে। এর আগে ভাষাকে বিকৃত করার মাধ্যমে কিছু পরিচালক নাটক নির্মাণ করায় জনরোষে পতিত হয় এবং মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনায় কিছুটা প্রশমিত হয়। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ সরকার একটি সম্প্রচার নীতিমালা প্রকাশ করে, যেখানে বিষয়গুলো সম্পর্কে নির্দেশনা রয়েছে। আশির দশকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অশ্লীলতার প্রবণতার ফলে দর্শক সিনেমা বর্জন করেছিল। একইভাবে দর্শক যদি আমাদের নাটক বর্জন করতে থাকে তাহলে তা হবে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। প্রযুক্তির উত্তরোত্তর আধুনিকতার ফলে আমরা টেলিভিশন চ্যানেল ছাড়াই অন্যান্য মাধ্যমে সংযুক্ত হতে পারছি (যেমন ইউটিউব, ওটিটি প্লাটফর্ম)। আমরা এসবকে নিয়ন্ত্রণ বা বর্জন করার পক্ষপাতি নই। আমরা শিল্পীর স্বাধীনতা ও ভিন্ন মতে বিশ্বাসী। কাহিনির প্রয়োজনে কোনো শিল্পীত উপস্থাপনার খবরদারিত্বে আমরা বিশ্বাস করি না, কিন্তু অপ্রয়োজনে শুধুমাত্র দর্শক টানার মিথ্যা প্রলোভন আমাদের নাটক শুধুই বিনোদনের পণ্য হয়ে দাঁড়াক তাও চাই না। এটিও উদ্বেগের বিষয় যে, ওয়েব বা এই ধরনের প্লাটফর্মে নাটক পাইরেসি হয়ে অন্যত্র চলে যায় এবং খণ্ডিতভাবে প্রকাশ হলে বিভ্রান্তি ছড়ায় যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। করোনা পরবর্তী সময়ে শৈল্পিক উপস্থাপনায় নতুন অভিজ্ঞতায় উজ্জীবিত থেকে আমাদের শিল্প এক নতুন অভিধা সৃষ্টি করবে। রাষ্ট্র, আইন, সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নয়, শিল্পীর নিজস্ব অভিব্যক্তি হবে প্রধান বিষয়। শিল্পী-কলাকুশলীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমাদের সংগঠন। শিল্প এবং শিল্পীর ওপর যদি কোনো অন্যায় আঘাত আসে তার পাশে অবশ্যই দাঁড়াবে। এমতবস্থায় নাট্যকার, পরিচালক, অভিনেতা-অভিনেত্রী, কলাকুশলী সবাইকে সুস্থ ও শৈল্পিক বিনোদনের প্রক্রিয়ায় আসার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।