ব্রেকিং নিউজ!! করোনাভাইরাস আর অদৃশ্য নয়। মানুষের শরীরে চূড়ান্ত মিউটেশন ঘটিয়ে সে এখন আস্ত মানুষ। করোনামানুষ। বন্ধ থাকা স্কুলঘরটাতে ক্যাম্প করেছে।
লতিফ হাজী খুশিতে বাকবাকুম। করোনাভাইরাস অদৃশ্য ছিল বলেই ভয়ে চালের বস্তা সরালেও মনের ভেতর দুঃখ রয়ে গেছে। বস্তা টানা ছোটোলোকগুলোর সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে হিসেবটা কম হয়ে গেল।
লতিফ হাজী ফজরের আজানের আগেই অদৃশ্য ভাইরাসের দৃশ্যমান মানুষ চেহারার বুট পরা পায়ের কাছে সত্যিকারের সিজদা ঠুকে কঁকিয়ে ওঠে। যেসব নাফরমান করোনাভাইরাসকে রুখে দেবে বলে যুদ্ধ শুরু করেছে, সেইসব যোদ্ধার বাড়ি চিনিয়ে দেবে ও।
মোটাতাজা গোঁফে তা দিতে দিতে করোনামানুষ বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে বলে, আওর কুছ্?
প্রোটিন খেয়ে করোনা ঠেকানোর বুদ্ধি আটকে দেব। গরুছাগলমুরগিমোরগ লুট করে লুটিয়ে দেব হুজুরদের সেবায়।
করোনামানুষ অট্টহাসি হাসবে বলে প্রস্তুতি নেয়।
গণিমতের মালও মিলেগা। জেনানারা এখন জেনুইন জেনানা। বাড়িতেই থাকে। মন দিয়ে সংসার করে। লতিফ হাজী এক চোখ টিপে ইঙ্গিত দিয়ে বলে, করোনাভাইরাস জিন্দাবাদ!
অট্টহাসি করোনামানুষের। সেই হাসির ধাক্কায় ফেটে যায় ভাইরাস শরীর। ওর শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত। নিজেকে করোনামানুষে পরিণত হওয়া থেকে বাঁচাতে লতিফ হাজী দ্রুত চোখ খুলে ঘুম থেকে জেগে উঠতে চায়। এরপরই খাট থেকে গড়িয়ে পড়ে। খাটের পাশে স্তূপ করে রাখা চালের বস্তারাও গড়িয়ে পড়ে বলে গোঙানির শব্দ মানুষ না বস্তা কাটতে আসা ইঁদুরের, তা ঠিক বোঝা যায় না।
