করোনার সময় গুজব হইতে দূরে থাকাটাও গুরুত্বপূর্ণ

আপডেট : ২১ জুন ২০২০, ২১:৩৭

ভুয়া নিউজের একটি চটকদার ব্যাপার রহিয়াছে। এই কারণে উহা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছড়াইয়া পড়িতে পারে দাবানলের মতো। এই মহামারিকালে করোনা হইতে মুক্তি পাইতে প্রায় সকলেই সামাজিক নিউজফিডে বিভিন্ন টিপস পাইয়াছেন। পাইয়াছেন করোনামুক্তির বিভিন্ন ধরনের আশাব্যঞ্জক খবর এবং খবরের লিংক। এই যেমন গতকাল ছিল বলয় সূর্যগ্রহণ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভুয়া সংবাদ ভাইরাল হইয়া গিয়াছিল যে, এই সূর্যগ্রহণের পর পৃথিবী হইতে বিদায় লইবে করোনা ভাইরাস। এই ভাইরাস নাকি গত বত্সর ডিসেম্বরে সংক্রমণ শুরুও করিয়াছিল একটি সূর্যগ্রহণের পর হইতে! দুঃখের ব্যাপার হইল, এই সকল নিউজ বিস্ময়বোধক চিহ্ন দিয়া প্রকাশ হইয়াছে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নিউজ পোর্টালেও।

ইহা একবিংশ শতাব্দী। তাহার পরও মানুষের মধ্যে কুসংস্কার এবং চটকদার ভুল সংবাদ বিশ্বাস না করিবার মতো মানসিক বিকাশ এখনও পুরাপুরি হয় নাই। ফেসবুক বহু ক্ষেত্রে হইয়া উঠিয়াছে ভুল তথ্য এবং নিউজের আধার। অনেক তথাকথিত শিক্ষিত মানুষও খুব সহজে এইগুলি বিশ্বাস করেন। এমনকি নিজের নিউজফিডে শেয়ারও করেন। ফেসবুকের কর্ণধার মার্ক জুকারবার্গ দুই মাস আগে জানাইয়াছেন যে, তখন অবধি প্রতি হাজারে ১০০টি করিয়া করোনা ভাইরাস-সংক্রান্ত ভুল তথ্য তাহাদের সরাইয়া ফেলাইতে হইয়াছে। ফেসবুক নিয়োজিত ফ্যাক্ট-চেকাররা করোনা লইয়া ভুল তথ্যসংবলিত প্রায় ৪০ কোটির মতো পোস্ট খুঁজিয়া পাইতেছেন প্রায় প্রতি মাসে। করোনা হইতে রক্ষা পাইতে যেই সকল ভুয়া প্রতিকারের কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়াইয়া পড়িয়াছে, মুশকিল হইল, প্রায় সকল ক্ষেত্রে এই ধরনের পোস্টে সূত্র হিসাবে উল্লেখ করা হইয়াছে কোনো না কোনো চিকিত্সক কিংবা বড়ো সংস্থার নাম। যেমন ইউনিসেফের উদ্ধৃতি দিয়া বলা হইয়াছে—ঘনঘন গরম জল পান করিলে এবং রৌদ্রের নিচে দাঁড়াইলে করোনা ভাইরাসের জীবাণু মরিয়া যাইবে। ‘করোনা থেকে রক্ষা পেতে—১৫ মিনিট অন্তর জল পান’ নামের একটি পোস্ট একজন ‘জাপানি ডাক্তার’কে উদ্ধৃত করিয়া বলা হইয়াছে—করোনা ভাইরাসের জীবাণু মুখের মধ্যে ঢুকিয়া পড়িলেও প্রতি ১৫ মিনিট পরপর পানি পান করিলে তাহা শরীর হইতে বাহির হইয়া যায়। এই পোস্টের একটি আরবি ভার্শন আড়াই লক্ষ বার শেয়ার হইয়াছে! ইহা যেন সুকুমার রায়ের ‘অবাক জলপান’! চীনের একজন চিকিত্সককে উদ্ধৃত করিয়া বলা হইয়াছে, ঘণ্টায় ঘণ্টায় আদা দিয়া রং চা খাইতে। বলিবার অপেক্ষা রাখে না, এই সকল সংবাদের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নাই। সামুদ্রিক লেটুস বিভিন্ন মনগড়া পথ্য আপনাকে কোভিড-১৯-এর হাত হইতে বাঁচাইতে পারিবে না। আবার ১০ সেকেন্ড নিঃশ্বাস আটকাইয়া রাখিবার মাধ্যমে করোনা সংক্রমণের পরীক্ষা বাস্তবোচিত নহে।

প্রত্যেকের উচিত—কোনো চটকদার সংবাদ পাইলেই তাহা যাচাই না করিয়া শেয়ার না করা। ইহাতে নিজে যেমন বোকা বনিবেন তেমনি যাহারা ঐ পেস্টের সত্যতা জানেন, তাহাদের নিকট হাসির পাত্র হইবেন। সুতরাং নিজে সতর্ক হউন, প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমের সূত্র ব্যতীত কোনো পোস্ট সহজে বিশ্বাস করিবেন না। শেয়ার তো দূরের কথা। করোনার সময় গুজব হইতে দূরে থাকাটাও কম গুরুত্বপূর্ণ নহে।