উন্নয়নের গতিটা ধরে রাখতে চাই :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২১ জুন ২০২০, ২২:৪৭

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জীবন চলতে থাকবে, জীবন স্থবির থাকতে পারে না। তার পরেও সবাইকে স্বাস্থ্যবিধিটা মেনে চলতে হবে। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে আমাদের উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। কিন্তু তারপরেও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি   ধারাবাহিকতা বজায় রেখে যতটুক সম্ভব উন্নয়নের গতিটা ধরে রাখতে।

গতকাল রবিবার ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে সূচনা বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে পুকুর-খাল কাটায় অনিয়ম রোধ এবং এলজিইডির কাজের মান বজায় রাখার নির্দেশনা  দেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে দেশের সকল কারাগারে ভার্চুয়াল আদালতের ব্যবস্থা করার নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, কারাগারগুলোতে ন্যূনতম আধুনিক ব্যবস্থা করতে হবে। কারাগারগুলোতে বন্দিরা অনেকেই কাজ করে থাকেন, সেখান থেকে আয় হয়। এই আয়ের অর্ধেক বন্দিদের দিতে হবে। তারা যাতে কারাগার থেকে বেরিয়ে এই টাকা নিয়ে যেতে পারে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী মিঠা পানির মাছ উত্পাদনে দেশকে প্রথম অবস্থানে নিয়ে আসতে ও জরিপ করে বালুমহালগুলোর স্থান চিহ্নিত করতে বলেছেন। সভা শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় হতে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনের বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, পুকুর খনন প্রকল্পের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, অনেক সময় শুধু পাড় ছেঁটে পুকুর বা নদী খনন দেখানো হচ্ছে এরকম অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি দিতে হবে। তাছাড়া প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে চলছে, তাই দ্রুত প্রকল্প শেষ করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পল্লি অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এলজিইডির কাজের বদনাম হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, রাস্তা বানানোর সময় পাতলা ঢালাই দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সরকারের রাস্তাগুলো যথাযথ মান বজায় রেখে নির্মাণ করতে হবে।

সভায় ৯ হাজার ৪৬০ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সবগুলো প্রকল্পই সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী গণভবন হতে ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে বৈঠকে যুক্ত হন। শেরে বাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সংশ্লিষ্ট বাকিরা অংশ নেন।

সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো, ১১৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মত্স্য উত্পাদন বৃদ্ধি (২য় সংশোধিত) প্রকল্প, ৯৯৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে মনু নদীর ভাঙন হতে মৌলভীবাজার জেলার সদর, রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলা রক্ষা প্রকল্প, ৬ হাজার ৪৭৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩, ১৫৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে বৃহত্তর পটুয়াখালী জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলা) (২য় সংশোধিত), ৫৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে হাওর অঞ্চলে টেকসই পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও হাইজিন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প, ২১০ কোটি টাকা ব্যয়ে জামালপুর জেলা কারাগার পুনঃনির্মাণ প্রকল্প, ২৫৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (চট্টগ্রাম জোন) (১ম সংশোধিত) প্রকল্প, ৬১২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ (হরিদাসপুর)-মোল্লাহাট (ঘোনাপাড়া) আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প, ৭৪ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের ১০০টি মিটার গেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ পুনর্বাসন (২য় পর্যায়) প্রকল্প। এছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিএএফও বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মাণ, যশোর (৩য় সংশোধিত) প্রকল্পটি ব্যয় বৃদ্ধি ব্যতিরেকে মেয়াদ বৃদ্ধির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।