গতকাল রবিবার দীর্ঘতম দিনে সূর্যগ্রহণের জাদুময় সৌন্দর্য দেখল বিশ্বের মানুষ। দেশের আকাশ যেখানে যেখানে পরিষ্কার ছিল সেখান থেকে গ্রহণের মহাজাগতিক দৃশ্য অবলোকন করা গেছে। রাজধানী ঢাকায় এই গ্রহণ মেঘের কারণে প্রথমে একেবারেই দেখা যায়নি। ১২টার পর খুবই অল্প সময় দেখা গেছে।
স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ২৩ মিনিট থেকে চাঁদের আড়ালে ঢাকা পড়তে শুরু করে সূর্য। ধীরে ধীরে একটা সময় সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলে চাঁদ। মুহূর্তেই নেমে আসে প্রায়-অন্ধকার, সৃষ্টি হয় এক মায়াবী আবছায়া রাতের। তারপর আস্তে আস্তে কেটে যায় সেই তমসা। এই বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ বা সূর্যের ওপর চাঁদের ছায়া পড়েছে ঠিকই কিন্তু তা সূর্যকে সম্পূর্ণরূপে ঢাকতে পারেনি। এসময় সূর্যটা চাঁদের চারপাশে লাল আলোর রিং বা বলয়ের মতো দেখায়।
বাংলাদেশ থেকে এই গ্রহণ পূর্ণ দেখা না গেলেও বিশ্বের বহু দেশ থেকে ‘রিং অব ফায়ার’ দেখা গেছে। বাংলাদেশ থেকে আংশিক গ্রহণ দেখা যায়। ঢাকায় গ্রহণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে উপনীত হয় দুপুর ১টা ১২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে। আবহাওয়া অধিদফতরের সহকারী আবহাওয়াবিদ রোনাকী খোন্দকার জানান, সকাল ৯টা ৪৬ মিনিট ৬ সেকেন্ডে কঙ্গোর ইম্পফোল্ডো শহরে সূর্যগ্রহণ শুরু হয়। কেন্দ্রীয় গ্রহণ শুরু হয় দেশটির বোমা শহরে সকাল ১০টা ৪৮ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে। সর্বোচ্চ গ্রহণ ভারতের যোশীমঠ শহরে দেখা গেছে ১২টা ৪০ মিনিট ৬ সেকেন্ডে। কেন্দ্রীয় গ্রহণ শেষ হয় ফিলিপাইনের সামার শহরে দুপুর ২টা ৩১ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে। আর সূর্যগ্রহণ পুরোপুরি শেষ হয় দেশটির মিন্দানাও শহরে বিকাল ৩টা ৩৪ মিনিটে। সারাবিশ্ব থেকে এই গ্রহণ দেখা যায়নি। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় সূর্যগ্রহণ দেখেছে মানুষ। বাংলাদেশ, চীন, জাপান, কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা গেলেও, পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা গেছে ইন্দোনেশিয়ায়।
বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের কিউরেটর (প্রযুক্তি) সুকল্যাণ বাছাড় বলেন, জাদুঘরের ছাদে সোলার ফিলটার বসানো টেলিস্কোপের মাধ্যমে কয়েকজন কর্মকর্তা সূর্যগ্রহণ দেখেছেন। করোনার কারণে এবার সাধারণ মানুষদের দেখানোর কর্মসূচি বাতিল করা হয়। বাংলাদেশ থেকে পরবর্তী সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে ২০২২ সালের ২৫ অক্টোবর।
