মানবপাচার ও অর্থ পাচারের অভিযোগে কুয়েতে আটক লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম ওরফে কাজী পাপুল ও তার কোম্পানির ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে কুয়েতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন করেছে দেশটির পাবলিক প্রসিকিউশন।
কাজী পাপুলের কোম্পানিতে ৫০ লাখ কুয়েতি দিনার আছে (প্রায় ১৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা)। তার মধ্যে কুয়েতিয়া মারাফিয়া কোম্পানির মূলধন হিসেবে একটি ব্যাংকে ৩০ লাখ দিনার রয়েছে (প্রায় ৮২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা)। শনিবার কুয়েতি সংবাদমাধ্যম আরব টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাজী পাপুল ও তার প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করার জন্য দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন করেছে পাবলিক প্রসিকিউশন। ব্যাংক হিসাবগুলো থেকে সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে নিশ্চিত হয়েছেন। তাই এসব হিসাব থেকে যাতে আর কোনো রকম লেনদেন না হয়, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন করেছেন তারা।
এদিকে কুয়েতের আল কাবাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাজী পাপুলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে অর্থগুলো যাতে উদ্ধার করা যায়, সেজন্য পাবলিক প্রসিকিউশন এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে তদন্ত সূত্রগুলো জানিয়েছে।
মানব পাচার, অর্থ পাচার ও কর্মী শোষণের অভিযোগে গত ৬ জুন কাজী পাপুলকে গ্রেফতার করে কুয়েতের সিআইডির সদস্যরা। আটক করা হয়েছে তার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, পাপুলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মূর্তজা মামুনকে।
ইতিমধ্যে এমপি পাপুলের বিরুদ্ধে কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশনের কাছে সাক্ষ্য দিয়েছেন ১২ বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মী। জানা গেছে, পাপুলের বিরুদ্ধে জালিয়াতি করে কর্মী নিয়োগ, রেসিডেন্সি আইনের লঙ্ঘন ও ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ আনা হচ্ছে। দেশটির তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তি আর সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে। ইতিমধ্যে তিনবার জামিন আবেদন নাকচ হয়েছে তার। কাজী পাপুলের বিরুদ্ধে সিআইডির করা মানব পাচার ও অবৈধ মুদ্রা পাচার নিয়ে আগামী ৬ জুলাই শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশন।
এদিকে কুয়েত সরকারের তিন কর্মকর্তা কাজী পাপুলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে পাবলিক প্রসিকিউশনের কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন। এদের মধ্যে দুজন ম্যানপাওয়ার কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা এবং একজন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা।
এখন পর্যন্ত তদন্তে জানা গেছে যে, এমপি কাজী পাপুল প্রতি বছর ঘুষ, উপহার ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়েও প্রায় ৫৫ কোটি টাকা বছরে আয় করতেন। মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক সংবাদ সংস্থাগুলোর রিপোর্ট মতে, এক নারীসহ পাপুল কানেকশনে এ পর্যন্ত কুয়েতের সাবেক ও বর্তমান ৩ এমপি, স্বরাষ্ট্র ও জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের ৭ শীর্ষ কর্তাসহ মোট ২১ জনকে চিহ্নিত করেছে কুয়েত-সিআইডি। তারা কড়া নজরদারিতে রয়েছেন। যে কোনো মুহূর্তে তাদের আদালতে উপস্থাপন করা হবে। পাপুলের কাছ থেকে লাখ লাখ দিনার ঘুষ বা উপহার পেয়েছেন তারা।
