দুর্বল হচ্ছে করোনা ভাইরাস! হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন, করোনা ভাইরাস দুর্বল হয়ে আসছে। করোনা ভাইরাসের দুর্বল হয়ে আসার এই দাবি করেছেন ম্যাতিও বাসসেতি নামের ইতালির এক চিকিত্সক অধ্যাপক। তিনি বলেন, এটা যদি সত্যিই এভাবে দুর্বল হতে থাকে, তাহলে হয়তো কোনো ভ্যাকসিন ছাড়া নিজে থেকেই একসময় নিঃশেষ হয়ে যাবে করোনা ভাইরাস।
ইতালির ঐ শীর্ষ চিকিত্সক বলেন, শুরুর দিকে করোনা ভাইরাস ছিল ‘ক্ষিপ্র বাঘের’ মতো এক রোগ। তবে তা দুর্বল হয়ে এসেছে; অনেকটাই বনবিড়ালের মতো। করোনা ভাইরাসের ‘নির্মমতা’ কমতে শুরু করেছে। আগের চেয়ে এখন রোগীদের বেঁচে যাওয়ার হার বেড়েছে। এখন যারা আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের বেশির ভাগই সুস্থ হয়ে উঠছেন। কিন্তু প্রথম দিকে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এই চিত্র অন্যরকম ছিল।
তার দাবি, মহামারির শুরুর দিকে ভাইরাসের ক্ষমতা বেশি থাকায় মৃত্যুর হার বেশি ছিল। তার যুক্তি, প্রথম দিকে মার্চ-এপ্রিলে ইতালিতে আক্রান্তদের উল্লেখযোগ্যসংখ্যকের অবস্থা খুবই নাজুক ছিল। কিন্তু বর্তমানে ৮০-৯০ বছর বয়সিরাও বিছানায় বসতে পারছেন, কোনো ধরনের সাহায্য ছাড়াই তারা নিঃশ্বাস নিতে পারছেন। প্রথম দিকে এ ধরনের রোগীরাই দুই থেকে তিন দিনে মারা যেতেন। এছাড়া এখনকার রোগীদের মধ্যেও করোনা ভাইরাস সম্পর্কে আতঙ্ক ও ভীতি আগের চেয়ে অনেক কমেছে।
ইতালির স্যান মার্টিনো জেনারেল হাসপাতালের সংক্রমণ ব্যাধি বিভাগের প্রধান এই চিকিত্সকের মতে, মার্চ ও এপ্রিল থেকেই ভাইরাসটি দুর্বল হতে শুরু করেছে। এভাবে চলতে থাকলে ভাইরাসটি নিজে থেকেই চলে যাবে। এর জন্য কোনো ভ্যাকসিন কিংবা ওষুধেরও প্রয়োজন হবে না।
ভাইরাসের এই দুর্বল হয়ে যাওয়ার যুক্তি হিসেবে তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসটির জিনগত পরিবর্তনের কারণেই এটি ঘটতে পারে। জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে এর ভয়াবহতা কমছে। এছাড়া এখন আগের চেয়ে বেশি কার্যকর ওষুধ ব্যবহার করছে মানুষ। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলায় আগের মতো এত বেশিসংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে না বলেও তিনি মনে করেন। তবে অন্য সব বিজ্ঞানীই করোনা ভাইরাসের দুর্বল হয়ে যাওয়ার তত্ত্বের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তাদের মতে, করোনা ভাইরাস দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব ওলোনগোংয়ের অধ্যাপক ড. জিডিয়ন মায়েরোইটজ-কাটজ বলেন, করোনা ভাইরাসের এই দুর্বল হয়ে নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার ধারণাটি নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তিনি ইতালিকে উলটো সতর্ক করে বলেন, এখনো সেখানে প্রতিদিন নতুন নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে; তাই এখনো পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নয় ইতালি।
এর আগে জুনের শুরুতে বাসসেতির দাবির জবাবে কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ড. অ্যাঙ্গেলা রাসমুসেন বলেন, ভাইরাসটি যে তার ক্ষমতা হারাচ্ছে, এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। তিনি বলেন, আগের চেয়ে কম প্রাণহানি ঘটছে, কারণ চিকিত্সাব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। তাই প্রাণহানি কম বলেই বলা যায় না যে ভাইরাসটি তীব্রতা হারিয়ে ফেলেছে।—ডেইলি মেইল
