করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে জারি করা বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে খুলনায় ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের ৫৪টি পদে পরীক্ষা নিয়েছে খুলনা জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগ। গত শনিবার খুলনা মহানগরীর তিনটি কেন্দ্রে সহস্রাধিক প্রার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেন। একই দিন পৃথক স্থানে প্রার্থীদের মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষাও নেওয়া হয়। তবে খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, ‘সকল প্রকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবকিছু করার নির্দেশনা দিয়েছে।’
এদিকে, করোনা প্রাদুর্ভাবকালে বিভিন্ন স্থানের চাকরি প্রত্যাশীদের পরীক্ষা গ্রহণের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খুলনার নাগরিক নেতা, চাকরি প্রত্যাশী ও তাদের অভিভাবকরা। সর্বশেষ গত শনিবার খুলনায় ৩৬২টি নমুনা পরীক্ষায় ১৪৬ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। গত শনিবার সকাল ১০টায় খুলনা জিলা স্কুল, সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও খুলনা কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে লিখিত পরীক্ষা, বিকাল ৪টায় নগরীর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল দপ্তরে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। বিকাল সাড়ে ৪টায় খুলনা জেলা প্রশাসকের দপ্তরে মৌখিক পরীক্ষার সময় দেওয়া হলেও পরে তা সন্ধ্যা ৭টায় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু করোনা সংক্রমণ এড়াতে জেলায় পাবলিক পরিবহন ও যান চলাচল সীমিত থাকায় পরীক্ষার্থীরা জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে পরীক্ষা কেন্দ্রে আসতে বিড়ম্বনায় পড়েন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) খুলনা জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা বলেন, ‘খুলনা জেলা প্রশাসকের নির্দেশে জেলায় একপ্রকার লকডাউন চলছে। তারমধ্যে এ ধরনের পরীক্ষা নেওয়া ঠিক হয়নি। এটি দুঃখজনক।’ খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘যেখানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বার বার লকডাউন এবং আরো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আসছেন; সেখানে খোদ জেলা প্রশাসনের রাত অবধি নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ ভালো বার্তা দেবে না।’
