ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নের নির্জন বিলের পানের বরজ এর পাশে মাটি চাপা দেওয়া কলেজছাত্র সুমনের লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। শনিবার রাত ৮টায় বন্ধুর ফোনে তার কাছে গিয়ে নিখোঁজ হন ওই ছাত্র। এরপর সোমবার (২২ জুন) দুপুরে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে ঘাতক মিঠুকে আটক করে পুলিশ।
পরে ঘাতককে নিয়ে পক্ষিয়া ইউনিয়নের নির্জন বিলের মধ্যে মোশারফ মোল্লার বাগান থেকে নিহত সুমনের মাটি চাপা দেওয়া লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত সুমন ওই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের প্রবাসী মফিজুল মিয়ার ছোট ছেলে।
পূর্বশত্রুতা,মাদক বিরোধসহ একাধিক বিষয় নিয়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে এমন বক্তব্য সহকারী পুলিশ সুপার লালমোহন সার্কেল রাসেলুর রহমানের।
নিহতের স্বজনরা জানায়, সৌদি প্রবাসী মফিজুল ইসলামের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান সুমন। সে সরকারি আব্দুল জব্বার কলেজের ডিগ্রী পড়ুয়া ছাত্র। শনিবার রাত ৮টায় স্থানীয় বোরহানগঞ্জ বাজারে তার খালাতো ভাইদের সাথে চা খাচ্ছিল। এ সময় পক্ষিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের নাজিম উদ্দিনের ছেলে ও নিহত সুমনের বন্ধু মিঠু ফোন করে তাকে ডেকে নেয়। এরপর থেকে সুমন নিখোঁজ। এ ঘটনার পর তারা স্থানীয় থানায় একটি ডায়েরি করেন। এরপর শুরু হয় তদন্ত।
তবে অন্য একটি সূত্র জানান,নাজিম ও তার সন্তানরা মাদক ব্যবসায়ী। বাবা-ছেলে মাদক বিক্রয়ের অপরাধে গ্রেফতারও হয়েছিল।
বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ মু এনামুল হক জানান, সুমন শনিবার রাতে নিখোঁজ হওযার পর থেকে তদন্ত শুরু হয়। ফোনকলের সূত্র ধরে সোমবার সকালে মিঠুকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তিতে আমরা তাকে নিয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বশির গাজী,সহকারী পুলিশ সুপার লালমোহন সার্কেল রাসেলুর রহমানের উপস্থিতে মাটি খুড়ে লাশ উদ্ধার করা হয়।
আরো পড়ুন: জিডিপিতে স্টার্টআপের অবদান অব্যাহত রাখতে নীতিগত সহায়তার দাবি
তিনি বলেন,‘পূর্বশত্রুতা কিংবা মাদকসহ একাধিক বিষয়কে সামনে নিয়ে তদন্ত চলছে।’ তিনি আরো বলেন,শনিবার রাতেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।
সহকারী পুলিশ সুপার লালমোহন সার্কেল রাসেলুর রহমান জানান, নিজের মধ্যে কোন শত্রুতা, মাদক কিংবা টাকা পয়সা নিয়ে বিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে।’
এদিকে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে ওসি জানান।
ইত্তেফাক/এএএম
