কাঁচা চামড়া ও লবণযুক্ত চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করা হবে এবার

আপডেট : ২২ জুন ২০২০, ২১:৩১

বিদেশ থেকে কোরবানির পশু আসা বন্ধ করা হয়েছে

ইত্তেফাক রিপোর্ট

স্থানীয় পশুর খামারিদের লোকসানের হাত থেকে রক্ষা করতে এবার প্রতিবেশী দেশ থেকে পশু আনা বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে জানানো হয়েছে। গতকাল সোমবার চামড়া শিল্প উন্নয়নের লক্ষ্যে গঠিত টাস্কফোর্সের সভায় এ তথ্য জানান জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহেদ আলী। সভায় মূলত আগামী কোরবানির ঈদের আগে পশুর ব্যবস্থাপনা ও ঈদের পর পশুর চামড়ার বাজার নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ভার্চুয়ালি আয়োজিত ঐ সভায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ছাড়াও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মো. শাহেদ আলী বলেন, কোরবানিকে কেন্দ্র করে ভারত থেকে অবৈধ গবাদি পশু আসা এবং কোরবানির পশুর চামড়া চোরাচালান প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিট খাটালের (সীমান্তে নির্দিষ্ট কর পরিশোধ করে গরু নেওয়া) অনুমতিও এবার দেওয়া হয়নি। এছাড়া ঈদের দিন ও পরদিন চামড়া নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং এ সময় যাতে কোনো গুজব না ছড়ায়, সে বিষয়ে পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সভায় কোরবানির পশুর চামড়ার ব্যবসায়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা করোনার কারণে তাদের বিপুল ক্ষতির ফিরিস্তি তুলে ধরেন। এ সময় তারা এবারের পশুর চামড়া ক্রয়ের জন্য ব্যাংক ঋণ দেওয়ার দাবি জানান। আসন্ন ঈদুল আজহায় চামড়া ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে চামড়া শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের লাভের কথা বিবেচনা করে কাঁচা চামড়া ও লবণযুক্ত চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করা হবে। এতে ব্যবসায়ীরা পর্যাপ্ত পরিমাণে চামড়া ক্রয় ও সংরক্ষণ করার সক্ষমতা অর্জন করবেন। তিনি বলেন, বিগত বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে এবার চামড়ার সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে তিনি সংশ্লিষ্টদের পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে ‘খোলা মন’ নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ট্যানারি শিল্পের জন্য বাজেট সহায়তা নিশ্চিত করতে অর্থ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, হাজারিবাগে ট্যানারি মালিকদের জমি হতে রাজউকের ‘রেড জোন’ প্রত্যাহার করা হলে মালিকদের ঋণ পেতে সুবিধা হবে। ট্যানারি মালিকদের জন্য ঋণ সহায়তা নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে আসন্ন ঈদে চামড়ার পরিস্থিতির উন্নতি হবে না বলে তিনি আশঙ্কার কথা জানান।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব অরিজিত্ চৌধুরী বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহার আগেই ট্যানারি মালিকদের জন্য ঋণ সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বয়ে শিগিগরই একটি বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিসিকের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ বলেন, ঈদের পরের তিন মাস চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। এ সময় বাড়তি পানি ব্যবহার করা হলে সিইটিপির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে। অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করলে ট্যানারিগুলো লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (ট্যানারির আন্তর্জাতিক মানদণ্ড) সনদ অর্জনে ব্যর্থ হবে। তিনি বলেন, দেশে পর্যাপ্ত লবণ মজুত রয়েছে এবং কোরবানির সময় লবণের কোথাও কোনো ঘাটতি হবে না।

 এ সময় বক্তারা কাঁচা চামড়ার সঠিক মূল্য যাতে পায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।

সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, শিল্প সচিব কে এম আলী আজম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন আহমেদ, বাংলাদেশ ফিনিশ্ড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএলএলএফইএ) সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।