দশম সংসদ বিলুপ্ত হচ্ছে আজ, বহাল থাকছে মন্ত্রিসভা

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৪৪

এমপিদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দশম জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে আজ। তবে ভেঙে দেওয়া সংক্রান্ত ভিন্ন আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত মন্ত্রিসভা বহাল থাকবে। যদিও পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য আগামী ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত মেয়াদ ছিল। কিন্তু নতুন এমপিদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে পূর্ববর্তী সংসদের নির্বাচিত এমপিদের পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী শনিবার অথবা রবিবারের মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি তারা নিয়েছেন। এজন্য বঙ্গভবন এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্টরা কাজ করে যাচ্ছেন। দশম সংসদ বিলুপ্ত হলেও ওই সংসদের সদস্যদের নিয়ে গঠিত বিদ্যমান মন্ত্রিসভার পরিণতি কী হবে এ প্রশ্নে আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শম রেজাউল করিম এমপি গতরাতে ইত্তেফাককে বলেন, রাষ্ট্রপতি পরবর্তী মন্ত্রিসভা গঠিত না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান মন্ত্রিসভাকে কাজ চালিয়ে যেতে অনুরোধ করতে পারেন। ‘এরূপ ক্ষেত্রে বিদ্যমান মন্ত্রিসভা বহাল থাকবে যতক্ষণ নতুন মন্ত্রিসভার শপথ না হয়।’ 

প্রসঙ্গত দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি। ৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সচিবালয় গেজেট আকারে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামের তালিকা প্রকাশ করে। ৯ জানুয়ারি এমপিদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়। একইদিনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সংসদীয় দলের সভায় শেখ হাসিনাকে সংসদীয় দলের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগদানের জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট আবেদন করার সিদ্ধান্ত হয়। একই সময় সরকার গঠনের সম্মতি জ্ঞাপন ও মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে গণ্য হওয়া সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ১২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণের নিয়োগের অবসান ঘটানো হয়। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনাকে নিয়োগ প্রদান করেন। একই তারিখে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হয়। ওই মন্ত্রিসভায় ২৯ জন মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী এবং ২ জন উপমন্ত্রী শপথ নেন। এ ছাড়া মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ১ জন এবং ৫ জন উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি (জাপা), ১৪ দলীয় জোট, যুক্তফ্রন্ট মহাজোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়। পক্ষান্তরে প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি ঐক্যফ্রন্ট নামে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। মহাজোট ২৮৮ আসনে এবং ঐক্যফ্রন্ট ৭ আসনে জয়লাভ করে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৫৯, জাপা ২২, জাতীয় পার্টি-জেপিসহ ১৪ দলীয় জোট ৯টি আসনে বিজয়ী হয়। তবে জাপা নিজস্ব প্রতীক লাঙ্গল এবং জেপি নিজস্ব প্রতীক বাইসাইকেল নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। অন্যরা নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়।