নোয়াখালীতে গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার তিন

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৪৭

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় গণধর্ষণ মামলার আরও দুই আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশ গতকাল বুধবার দুপুরে ও গত মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা এবং লক্ষ্মীপুরে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে। এ নিয়ে এই মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াছ শরীফ বিপিএম-সেবা, পিপিএম-সেবা জানান, গতকাল দুপুরে কুমিল্লার বরুরা উপজেলার মহেষপুরের একটি ইটভাটা থেকে মামলার প্রধান আসামি মো. সোহেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সে মধ্যম বাগ্যা গ্রামের মৃত ইসমাইলের ছেলে। এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা থেকে মামলার তিন নম্বর আসামি স্বপনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সে চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্যম বাগ্যা গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। গত সোমবার মামলার ছয় নম্বর আসামি বাসুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গণধর্ষণের ঘটনা তদন্তে বুধবার দুপুরে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তিন সদস্যের একটি কমিটি নোয়াখালী আসে। তারা হাসপাতালে ওই নারীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

কমিটির প্রধান মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক আল-মাহমুদ ফয়জুল কবীর জানান, নোয়াখালীর সুবর্ণচরের গণধর্ষণের খবর পেয়ে প্রকৃত ঘটনা জানার জন্যে কমিশন ভুক্তভোগীর সাক্ষ্য গ্রহণ, ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন, মামলার এজাহারসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে দেখবে। এরপর কমিশনে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তদন্ত কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন, উপ-পরিচালক সুস্মিতা পায় ও গাজি সালাউদ্দিন। এ সময় আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তিন সদস্যের অন্য একটি তদন্ত দল হাসপাতালে এবং ঘটনাস্থলে যায়। তদন্ত দলে রয়েছেন অ্যাডভোকেট সেলিনা আক্তার, নার্গিস আক্তার ও হাসিবুর রহমান।

পুলিশ জানান, গত রবিবার রাতে চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্যম বাগ্যা গ্রামের সোহেল, হানিফ, স্বপন চৌধুরী, বেচু, বাসু, আবুল, মোশারেফ ও ছালাউদ্দিন ৪০ বছরের এক নারীর বসতঘর ভাঙচুর করে। এক পর্যায়ে তারা ওই নারীর স্বামী ও মেয়েকে বেঁধে রেখে তাকে ঘরের বাইরে নিয়ে গণধর্ষণ করে ও পিটিয়ে আহত করে। পরদিন ওই নারী ও তার স্বামীকে ২৫০ শয্যার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী ৯ জনকে আসামি করে চরজব্বার থানায় মামলা দায়ের করেন।